অস্ত্রভাণ্ডারে টান থেকে মিত্রদের অনাস্থা! আমেরিকার মহাশক্তি কি তবে এবার নজিরবিহীন সংকটে?

বিশ্বজুড়ে একাধিপত্য বজায় রাখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত শক্তি নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার যেভাবে দ্রুত খালি হচ্ছে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে, তাতে এই পরাশক্তি দীর্ঘমেয়াদি কোনো বড় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া—এই তিন প্রান্তে একসঙ্গে কৌশলগত চাপের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং চীনের সঙ্গে সামরিক প্রতিযোগিতা আমেরিকার অস্ত্রাগার এবং প্রতিরক্ষা শিল্প পরিকাঠামোর ওপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করেছে। আধুনিক যুদ্ধে শুধু অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকাই যথেষ্ট নয়; বরং ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও ড্রোন নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন করার যে ক্ষমতা প্রয়োজন, সেখানে আমেরিকার সাপ্লাই চেইন নিয়ে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে।
শুধু অস্ত্রভাণ্ডারের ঘাটতিই নয়, মার্কিন শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ অর্থাৎ ‘মিত্রদের আস্থা’ও এখন পরীক্ষার মুখে। বহু দশক ধরে ওয়াশিংটন যেভাবে বিশ্বজুড়ে তার মিত্র দেশগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এসেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির জেরে সেই একই সুরক্ষা ও প্রতিশ্রুতি কি তারা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারবে? এই প্রশ্নটি এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার প্রকৃত সামরিক শক্তি এখন কেবল তাদের অস্ত্রের বহর দিয়েই মাপা হচ্ছে না, বরং সংকটকালে মিত্রদের ভরসা জোগানোর ক্ষমতা এবং শিল্প উৎপাদনের গতিই ঠিক করে দেবে ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার অবস্থান কতটা পোক্ত থাকবে।