চিনির দামে বিরাট লাফ! ইথানল নয়, তবে কি কারণে হঠাত্ এত দাম বাড়ল? আসল সত্য জানাল কেন্দ্র

দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চিনির দাম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে রান্নার মিষ্টির এই প্রধান উপকরণের দাম কেজিতে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। খুচরো বাজারে চিনির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে সোজা ৫৫ টাকার গণ্ডি পার করেছে। এই পরিস্থিতিতে দাম বৃদ্ধির জন্য ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করে নানা মহলে যে জল্পনা চলছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিল কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইথানল তৈরির জন্য চিনির ব্যবহার কমানো হয়েছে। উল্টে বর্তমানে উৎপাদিত ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই শস্য, বিশেষ করে ভুট্টা থেকে তৈরি হচ্ছে। তাহলে হঠাৎ কেন এই মূল্যবৃদ্ধি? সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর পেছনে রয়েছে মূলত পাঁচটি মূল কারণ। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় কম দেশীয় উৎপাদন, আসন্ন উৎসবের মরশুমের আগে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে আখের ফলন মার খাওয়া, বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের একাংশের মজুতদারি।
যদিও উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে, তবুও দেশের বাজারে পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রক। আগামী অক্টোবর মাসে নতুন আখ তোলার মরশুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই। তা সত্ত্বেও বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে ১ অগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০০ টন মজুতের সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। একইসঙ্গে বড় পরিমাণে চিনি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্যও মজুতের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম চালু করা হয়েছে।