‘অসহায় ভাবে দিন কাটছে’, পোলিও আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের লড়াই! বিডিও অফিসে একটা কাজের আর্জি জানাল রায়নার বিষ্ণুপ্রিয়া

জন্ম থেকেই পোলিও আক্রান্ত। হামাগুড়ি দিয়ে কোনওরকমে হাঁটাচলা করতে হয়। তবুও লড়াইটা ছাড়েননি বর্ধমানের রায়না-২ ব্লকের পলাশন পঞ্চায়েতের নলে গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণুপ্রিয়া দাস (৩৪)। বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ে সরকারি ভাতার মাত্র ১০০০ টাকায় সংসার চালানো দায়। শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও উপযুক্ত একটি কাজের জন্য তিনি এখন সরকারি দপ্তরে দরজায় দরজায় ঘুরছেন।
সামান্য ভাতার ওপর নির্ভর করে জীবন
বিষ্ণুপ্রিয়া ২০০৫ সালে বিশেষ ভাবে সক্ষম-এর সার্টিফিকেট পান। প্রথমদিকে ৬০০ টাকা থেকে শুরু হলেও বর্তমানে তাঁর ভাতা জোটে মাত্র ১০০০ টাকা। সামান্য যে ছোটোখাটো কাজ জোটে, তাতে দু’বেলা খাবার জোগাড় করতেই সমস্যায় পড়তে হয়। সরকারি সাহায্যের আশায় তিনি বিডিও থেকে পঞ্চায়েত পর্যন্ত সকলের কাছেই ঘুরেছেন।
বিষ্ণুপ্রিয়ার অসহায় মা বলেন, “স্বামীর বয়স হয়েছে, দিন মজুরির কাজও তেমন করতে পারেন না। এক ছেলে আলাদা থাকে। জন্ম থেকেই পোলিও আক্রান্ত আমার মেয়েটিকে নিয়ে খুব অসহায় ভাবে দিন কাটছে। মেয়েটা তো শিক্ষিত। একটা কাজ যদি জোটে, তা হলে খুব ভালো হয়।”
প্রশাসনিক আশ্বাস
বিষ্ণুপ্রিয়া নিজে অবহেলিতভাবে নয়, বাঁচার মতো বাঁচতে মরিয়া। তিনি বলেন, “অবহেলিত ভাবে নয়, বাঁচার মতো বাঁচতে সকলের দরজায় দরজায় ঘুরেছি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যদি কিছু সাহায্য মেলে।”
রায়না-২ ব্লকের বিডিও অনিশা যশ বিষ্ণুপ্রিয়ার মনের জোরের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “বিষ্ণুপ্রিয়া আমার দপ্তরে এসেছিলেন। সত্যিই অসম্ভব মনের জোর। আমাদের তরফ থেকে যতটা করার করেছি। বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ও এ বারে একটা কাজ চাইছে, এই অফিসে একটা কাজ পেলে ওঁর ভালো হয়। আগামী দিনে প্রশাসনিক ভাবে যতটা করা সম্ভব, আমরা ওঁর পাশে থাকব।”
শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও সামান্য সরকারি ভাতার কারণে বিষ্ণুপ্রিয়ার জীবনযুদ্ধ কঠিন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত কাজটি জোটে কি না।