অসমের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ। বড় কোনো জোটের ধার না ধেরেই অসমে ‘একলা চলো’ নীতিতে অবিচল থাকল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ভালো ফলের পর এবার প্রতিবেশী রাজ্যে নিজেদের শক্তি পরখ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। প্রথম দফায় ১৭ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পর, আজ দ্বিতীয় দফায় আরও ৭ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল অসম প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এবং কংগ্রেসের দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে নিজেদের তৃতীয় বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতেই এই রণকৌশল নিয়েছেন মমতা-অভিষেকরা। দ্বিতীয় দফার এই তালিকায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় জনজাতি এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার প্রভাবশালী মুখদের। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অসমের মানুষ বর্তমান সরকারের কাজ নিয়ে তিতিবিরক্ত এবং কংগ্রেসের জোটও মানুষের ভরসা জিততে পারছে না। এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই তৃণমূল প্রতিটি আসনে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অসমে তৃণমূলের এই সক্রিয়তা কিন্তু বিরোধী ইন্ডি (I.N.D.I.A) জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। তবে তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা— মানুষের স্বার্থে এবং উন্নয়নের মডেল পৌঁছে দিতে তাঁরা আপস করবেন না। একদিকে ক্যা (CAA) ইস্যু, অন্যদিকে চা-শ্রমিকদের বঞ্চনা— এই দুই অস্ত্রকে হাতিয়ার করেই অসমে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে তারা। এখন দেখার, পাহাড় আর জঙ্গলের রাজ্যে বাংলার এই ‘দিদি’র ম্যাজিক কতটা কার্যকর হয়।