অসম বিধানসভায় প্রস্তাবিত ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) বিলটি পেশ করার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তাপ তুঙ্গে। আগামী বুধবার (২৭ মে) বিধানসভায় এই বিল নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা ও ভোটাভুটির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশেষ অধিবেশনের ঠিক আগে, রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন বিজেপি সরকারের কাছে বিলটি নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেছে।
সংগঠনগুলির দাবি কী? বিলটি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইনের বিষয়: এই বিষয়টি সরাসরি ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই কোনো বড় আইনি পদক্ষেপের আগে স্টেকহোল্ডার বা সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া জরুরি।
সদিচ্ছার অভাব: সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কোনো প্রকার পরামর্শ করেনি।
যৌথ আবেদন: জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ (দুটি গোষ্ঠী), জামাত-ই-ইসলামী, মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নসহ প্রায় ১০টি সংগঠন এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
সরকারের অবস্থান: অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার এই বিলটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে। সরকারের দাবি, এই আইনের মূল লক্ষ্য—বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য একীভূত ও আধুনিক আইনি কাঠামো তৈরি করা। বিশেষ করে বহুবিবাহ বন্ধ, বিয়ের নথিকরণ বাধ্যতামূলক করা এবং কন্যাশিশুদের উত্তরাধিকারের সমান অধিকার প্রদানের মতো বিষয়গুলোকে সরকার প্রগতিশীল হিসেবে তুলে ধরছে।
পরিস্থিতি ও বিতর্ক: আইনি বিশেষজ্ঞ এবং বিরোধীদের একাংশ মনে করছেন, বিলটিতে উপজাতি সম্প্রদায়কে ছাড় দিলেও মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের ক্ষেত্রে যেভাবে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একদিকে যেমন প্রগতিশীল মুসলিম সমাজের একটি অংশ এই আইনের স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে রক্ষণশীল সংগঠনগুলো তাদের ধর্মীয় স্বতন্ত্রতা রক্ষার দাবিতে অনড়।
আগামী বুধবার বিধানসভায় এই বিল নিয়ে কী ধরনের আলোচনা হয় এবং সরকার সংখ্যালঘু সংগঠনের দাবির বিষয়ে কতটা নমনীয়তা দেখায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





