অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন এবং মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ডিএ মূল বেতনের সাথে একীভূত হবে কি না, তা নিয়ে চলছে জোরদার জল্পনা। ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (FNPO) এবং অন্যান্য ইউনিয়নগুলো ইতিমধ্যেই ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৫০ শতাংশ ডিএ মূল বেতনের সাথে মেশানোর দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
ইউনিয়ন বনাম সরকার: লড়াই তুঙ্গে
ইউনিয়নগুলোর যুক্তি হলো, আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতির কারণে কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে ঠেকেছে। অতীতে ডিএ ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে তা মূল বেতনের অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও, সপ্তম বেতন কমিশন সেই প্রথা বাতিল করার সুপারিশ করেছিল। বর্তমানে সরকারের অবস্থানও বেশ কড়া। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংসদে দেওয়া লিখিত জবাবে কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে যে, ডিএ মার্জ করার কোনো প্রস্তাব এই মুহূর্তে তাদের বিবেচনাধীন নেই।
বেতন ও ভাতার ওপর প্রভাব:
বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং শীঘ্রই তা আরও ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও ডিএ মার্জ হচ্ছে না, তবে এটি ৫০ শতাংশ অতিক্রম করার ফলে এইচআরএ (HRA) এবং গ্র্যাচুইটি সীমার মতো ভাতাগুলো ২৫ শতাংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে অষ্টম বেতন কমিশন কাজ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের শেষের দিকে এই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হতে পারে, যার ফলে ন্যূনতম বেতন ৫৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।