হুগলির আরামবাগের প্রাচীন এই কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম হলো বারাসাতের কাঠোর রোডের ডাকাত কালীবাড়ি। এই মন্দিরটি তার এক অলৌকিক রহস্যের জন্য পরিচিত—এর কোনও দরজা নেই। সেবাইত সোমনাথ ব্রহ্মচারী জানান, যতবারই দরজা করার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই সকালে উঠে দেখা গিয়েছে দরজাটি গায়েব! মানুষের বিশ্বাস, জাগ্রত মা কালী স্বয়ং নাকি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন, তাই আর কোনও দ্বারের প্রয়োজন হয় না।
রঘু ডাকাতের আস্তানা:
স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে জানা যায়, এই কালী মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কুখ্যাত রঘু ডাকাতের নাম। একসময় এটাই ছিল রঘু ডাকাত ও তার দলবলের প্রধান আস্তানা। তারা এখান থেকেই পুজো করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বের হতেন এবং ডাকাতি শেষে ফিরে আসতেন।
প্রতিমার বদলে গাছ: এই মন্দিরে কোনও প্রতিমা নেই। প্রায় ৪০০ বছরেরও পুরনো একটি অশ্বত্থ গাছই এখানে দেবী রূপে পূজিত হন।
ভক্তদের হাতে পুজো: এখানে কোনও পুরোহিত নেই। পুজো দিতে গেলে ভক্তদেরই মায়ের কাছে মনস্কামনা জানিয়ে, নমস্কার করে মোমবাতি ও ধূপকাঠি জ্বালিয়ে নিজেকেই পুজো করতে হয়।
রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষত্ব:
বর্তমানে বারাসত পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই কালীমন্দির চত্বর পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হলেও, এর বেশি আর কেউ সংস্কার করতে চান না। কারণ প্রাচীন এই মন্দির বা গাছটিতে কোনওরকম আঘাত লাগলেই সর্বনাশ ঘটতে পারে— এই আশঙ্কায় পুরনো একই রকম ভাবেই রয়ে গিয়েছে রঘু ডাকাতের এই আস্তানা।
এই প্রাচীন মন্দিরটির ছাদ হলো অশ্বত্থ গাছের শিকড়। জানা যায়, মন্দিরের ইটগুলিও রঘু ডাকাত এবং তাঁর দলবল কাঠের ডাইস বানিয়ে তাতে মাটি দিয়ে তৈরি করেছিল। এখনও দূরদূরান্তের মানুষজনের কাছে এই ডাকাত কালীবাড়ি একই রকম জাগ্রত। কালী পুজোয় এখানে বিশেষ যোগ্য বলির আয়োজনও করা হয়।