অর্জুনকে প্রণাম করেই বাজিমাত! জল্পনা উড়িয়ে তৃণমূলের নির্বাচনী কমিটিতে নাম লেখালেন সুনীল সিং

উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। দিন কয়েক আগেই রামনবমীর মিছিলে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংকে জনসমক্ষে প্রণাম করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের এককালীন দাপুটে নেতা সুনীল সিংকে। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই জল্পনা ছড়িয়েছিল— তবে কি তৃণমূলের সাথে দীর্ঘদিনের ‘শীতল যুদ্ধ’ মিটিয়ে গেরুয়া শিবিরে ফিরছেন সুনীল? কিন্তু সেই সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে তৃণমূলের আসন্ন ২০২৬ নির্বাচনের ব্লক স্তরের নির্বাচনী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হলো তাঁকে।

প্রণাম-বিতর্ক ও রাজনৈতিক সমীকরণ: সুনীল সিং আদতে অর্জুন সিং-এর আত্মীয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারিবারিক সৌজন্যের খাতিরেই তিনি প্রণাম করেছিলেন বলে দাবি অনুগামীদের। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল অন্য। ইদানিং তৃণমূলের অনেক কর্মসূচিতেই দেখা মিলছিল না সুনীলের। উল্টে বিজেপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সাথে তাঁর যোগাযোগ বাড়ছে বলে খবর আসছিল। কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্ব এখনই তাঁকে হাতছাড়া করতে নারাজ। বিশেষ করে নোয়াপাড়ার হিন্দিভাষী ভোটব্যাঙ্কে সুনীলের যে প্রভাব রয়েছে, তা ভোটের আগে বিজেপিকে উপহার দিতে চায় না ঘাসফুল শিবির।

কেন নির্বাচনী কমিটিতে ঠাঁই? তৃণমূল সূত্রের খবর, সুনীল সিংকে কমিটিতে জায়গা দেওয়া আসলে এক ধরণের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নীতি। তাঁকে পদ দিয়ে দলের মূলস্রোতে ব্যস্ত রাখা এবং বিজেপিতে যাওয়ার রাস্তা আটকে দেওয়াই লক্ষ্য। তবে দলের একাংশ এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। তাঁদের মতে, যে নেতা প্রকাশ্যে বিরোধী শিবিরের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন, তাঁকে নির্বাচনী রণকৌশল তৈরির কমিটিতে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে গোপনীয়তা ফাঁসের ভয় থাকে।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া: বিজেপি অবশ্য এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। অর্জুন সিং অনুগামীদের দাবি, সুনীল সিং মনেপ্রাণে বিজেপিতেই আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তৃণমূলের ‘চাপে’ বা ‘পদ’-এর টোপে তিনি আপাতত আটকে গিয়েছেন। তবে ভোটের দিন বুথে বুথে সুনীলের অনুগামীরা কার হয়ে কাজ করবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। নোয়াপাড়ার ভোট সমীকরণে সুনীল সিং কি শেষ পর্যন্ত ‘ট্রোজান হর্স’ হয়ে উঠবেন না কি তৃণমূলের বিশ্বস্ত সৈনিক, তা বলবে সময়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy