পবিত্র উৎসবের মরসুম শুরুর আগেই উত্তরপ্রদেশে এক বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক বানচাল করল নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং উত্তরপ্রদেশ এটিএস-এর যৌথ অভিযানে কুশীনগর থেকে গ্রেফতার করা হলো দুর্ধর্ষ আইএসআইএস (ISIS) জঙ্গি রিজওয়ান আহমেদকে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, রিজওয়ানের নিশানায় ছিল যোগী রাজ্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির এবং ভিড়ভাট্টাপূর্ণ এলাকা।
কীভাবে এল সাফল্য? দীর্ঘদিন ধরেই গোয়েন্দাদের নজরে ছিল রিজওয়ান। জানা গিয়েছে, সে আইএসআইএস-এর পুণে মডিউলের সঙ্গে যুক্ত এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিল। তার মাথার ওপর ৩ লক্ষ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার ভোরে কুশীনগরের ডেরা থেকে তাকে ঝটিকা অভিযানে পাকড়াও করে পুলিশ।
মন্দিরে নাশকতার নীল নকশা: জেরায় রিজওয়ান যা কবুল করেছে, তা শুনে চোখ কপালে উঠেছে দুঁদে গোয়েন্দাদেরও। তার থেকে উদ্ধার হয়েছে:
জিহাদি সাহিত্য: উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়ানোর জন্য প্রচুর নিষিদ্ধ বই ও লিফলেট।
বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম: আইইডি (IED) তৈরির জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
ম্যাপ ও ছক: উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি প্রাচীন ও বিখ্যাত মন্দিরের ম্যাপ এবং সেই মন্দিরগুলির নিরাপত্তার ফাঁকফোকর সংক্রান্ত তথ্য।
দিল্লি পাটিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ: গ্রেফতারের পর রিজওয়ানকে কড়া নিরাপত্তায় দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নিয়ে আরও জেরা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দারা জানতে চাইছেন, যোগী রাজ্যে আর কাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল রিজওয়ানের এবং কোনো গোপন ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে কি না।
তৎপর যোগী সরকার: এই ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থল ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না এবং জঙ্গিদের ‘শিকড়’ উপড়ে ফেলা হবে।





