২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। রাজ্যের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে আগামী সপ্তাহে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
কার কবে হাজিরা? ইডি সূত্রে খবর:
দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু-কে আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ-কে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬)।
পুরনো মামলা, নতুন মোড়: এই নিয়োগ দুর্নীতির শেকড় বেশ গভীর। ২০২৩ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে একাধিকবার এই দুই মন্ত্রীর বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি ও সিবিআই। অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া ওএমআর শিট এবং নথিপত্র ঘেঁটে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, শুধুমাত্র কলকাতা নয়, রাজ্যের আরও অন্তত ১৫টি পুরসভায় টাকার বিনিময়ে বেআইনি নিয়োগ হয়েছে।
অভিযোগের তির কোথায়? সিবিআই-এর চার্জশিট অনুযায়ী: ১. অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমেই পুরসভার পরীক্ষাগুলি পরিচালিত হয়েছিল। ২. অয়নের সহযোগীদের মাধ্যমে মাথাপিছু ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ৩. বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেতেই এবার সরাসরি দুই মন্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায় ইডি।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: ভোটের মুখে দুই মন্ত্রীর তলব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিরোধীরা একে ‘দুর্নীতির পাহাড়’ বলে আক্রমণ শানালেও, শাসক শিবিরের দাবি— নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে বিজেপি।
এডিটরস নোট: এর আগে সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সোমবার সুজিত বসু হাজিরা দেবেন কি না, না কি আইনি রক্ষাকবচ খুঁজবেন, এখন সেটাই দেখার। তবে এই জোড়া তলব যে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করল, তা বলাই বাহুল্য।





