অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়! শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় নতুন মামলা

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা যেন ক্রমেই বাড়ছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সঞ্জয় সিংহলের দাবি, লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডিজে বাজানো নিয়ে যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন, তা জনমনে উত্তেজনা ছড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সামনের দিনগুলো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাঁকে পরপর তিনদিন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সই জালিয়াতি মামলায় রবিবার তাঁকে তলব করেছে সিআইডি। সোমবার প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে ইডি। আর মঙ্গলবার ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় ফের সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হবে তাঁকে। সই জালিয়াতির মামলায় এর আগে তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর, হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ভবানী ভবনে সিআইডি অফিসারদের জেরার মুখে পড়েছিলেন অভিষেক।

ডিজে-মন্তব্য নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগেও বাগুইআটি থানায় রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার তদন্ত প্রথমে বিধাননগর সাইবার থানা শুরু করলেও পরবর্তীতে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করে সিআইডি। ওই মামলাতেই গত শুক্রবার সিআইডির একটি দল অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছেছিল। ডিজে বাজানোকে কেন্দ্র করে উস্কানিমূলক ভাষণ, হুমকি ও শান্তি বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারী তুষারকান্তি দাসের দাবি, ৯ মার্চ কলকাতার মেট্রো চ্যানেলের সামনে একটি জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছিলেন, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জনশান্তি নষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবেই দেখছে। শাসকদলের দাবি, এজেন্সিকে ব্যবহার করে এবং আইনি মামলার চাপ তৈরি করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এই পরপর মামলার ঘটনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে ইডি ও সিআইডির জেরার প্রস্তুতি, অন্যদিকে একের পর এক থানায় অভিযোগ—সব মিলিয়ে রাজ্যের শাসকদলের জন্য পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অগ্নিগর্ভ। তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।