অভিষেকের বিদেশ যাত্রা ও গোপন বৈঠক নিয়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র! বললেন, ‘মাত্র ১০ ভাগ বলেছি, ৯০ ভাগ বলা বাকি’

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন কামারহাটির বিতর্কিত বিধায়ক মদন মিত্র। সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হওয়া একটি গোপন বৈঠক এবং সেই বৈঠকে হওয়া কথোপকথন নিয়ে মুখ খুলে তিনি নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। মদন মিত্রের দাবি, তিনি ওই বৈঠকে যা বলেছেন, তা মাত্র দশ শতাংশ; বাকি নব্বই শতাংশ তথ্য এখনও তাঁর মুখেই সুরক্ষিত রয়েছে। সঠিক সময় আসলে তিনি সেই সমস্ত গোপন তথ্যও প্রকাশ্যে আনবেন বলে একপ্রকার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম জল্পনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি বিশেষ বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি এবং রাজনীতি থেকে সাময়িক দূরত্ব বজায় রাখার আলোচনাকে কেন্দ্র করে। মদন মিত্রের দাবি অনুযায়ী, সেই বৈঠকে তিনি এবং কুণাল ঘোষ উভয়েই উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠান্ডা মাথায় বোঝানো যাতে তিনি দলের পদ থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ান। মদন মিত্রের বিস্ফোরক দাবি, অভিষেক নাকি তাঁদের কথা শুনে উল্টে আমেরিকা যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধী শিবিরের সহযোগিতা চাইতে বলেছিলেন। যদিও মদন মিত্রের এই সমস্ত দাবিকে সরাসরি সত্য বা মিথ্যা—কোনোটিই বলেননি কুণাল ঘোষ। তবে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক বা ঘরোয়া আলোচনার কথা এভাবে প্রকাশ্যে এনে একটি নতুন বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরি করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে কুণাল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন।
এদিকে, বিধানসভা চত্বরে দুই নেতার দীর্ঘ কথোপকথনের পর মদন মিত্র আরও এক ধাপ এগিয়ে জানান যে, কুণাল ঘোষ অন্তত এটুকু স্বীকার করেছেন যে তাঁরা অভিষেককে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দলের ঘরোয়া বিষয় বাইরে আনা নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাতে মদনের হুংকার—‘সাগর কখনও শুকোয় না, আর সত্য কখনও লুকোয় না।’ দলের অন্দরে এই গৃহযুদ্ধ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে পরোক্ষ তোপ দাগার ফলে বিরোধী দলগুলোর হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, মদন মিত্রের এই হুঁশিয়ারি নিছকই রাজনৈতিক কৌশল নাকি ভবিষ্যতে আরও কোনো বড় রাজনৈতিক বোমা ফাটতে চলেছে।