হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের অন্দরে চলা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের কোন্দল মেটাতে আসরে নামলেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরের সাংসদ ও চন্দননগরের দাপুটে বিধায়ক অসিত মজুমদারের মধ্যে প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যকে নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছিল, তা অবশেষে মিটল মাত্র একটি ফোনেই। ১৯শে মার্চ ২০২৬-এর সন্ধ্যায় অসিত মজুমদার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে কথা হয়েছে, আমি দেবাংশুর পাশেই আছি।”
গত কয়েকদিন ধরেই অসিত মজুমদারের গলায় শোনা যাচ্ছিল ভিন্ন সুর। দেবাংশুর প্রার্থিপদ নিয়ে কখনও ক্ষোভ, কখনও বা প্রচ্ছন্ন বিরোধিতা প্রকাশ পাচ্ছিল তাঁর মন্তব্যে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, চন্দননগরের এই অভিজ্ঞ নেতা হয়তো নবীন প্রার্থী দেবাংশুর হয়ে প্রচারে নামবেন না। কিন্তু আজ বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ফোন আসতেই বরফ গলতে শুরু করে। ফোনের ওপার থেকে কী বার্তা ছিল তা খোলসা না করলেও, অসিতের দেহভঙ্গি ও কথা এখন পুরোপুরি দলের অনুগত সৈনিকের মতো।
অসিত মজুমদার এদিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “অভিষেক আমার ভাইয়ের মতো, ও আমাকে ফোন করেছিল। ও যখন বলেছে, তখন আর কোনো প্রশ্ন নেই। দেবাংশু আমাদের ঘরের ছেলে, ওর জয়ের জন্য আমি জান লড়িয়ে দেব।” এই ঘটনার পর হুগলিতে তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল। দেবাংশু ভট্টাচার্যও এই সমঝোতায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এখন দেখার, চন্দননগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে অসিত-দেবাংশুর এই রসায়ন ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।