অভিষেকের আপ্তসহায়ক গ্রেফতার হতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! কোন গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছিলেন সুমিত?

শালবনির বিতর্কিত জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির পর এবার সিআইডির কড়া নিরাপত্তায় মেদিনীপুর জেলা আদালতে হাজির করানো হলো তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে। গত কয়েকদিন ধরেই সিআইডির রাডারে ছিলেন তিনি। গ্রেফতারের পর থেকেই সুমিত রায়কে দফায় দফায় জেরা করছে অপরাধ দমন শাখা। তদন্তকারী সূত্রে প্রকাশ, আর্থিক লেনদেন এবং জমির কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত একাধিক স্পর্শকাতর প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক বা স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। এমনকি এর আগের দফার জিজ্ঞাসাবাদেও তাঁর বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল বলেই গোয়েন্দাদের দাবি।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে এখন মূলত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে। কার সরাসরি নির্দেশে কাজ করতেন সুমিত রায়? আর্থিক কেলেঙ্কারির মূল নির্দেশ কোথা থেকে আসত? এবং বিশাল অঙ্কের টাকা লেনদেনের পুরো চেইনে ঠিক কী ধরনের ভূমিকা ছিল তাঁর? এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি একযোগে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আজ আদালতে পেশ করার পর সিআইডির পক্ষ থেকে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য জোরদার আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতের কাছে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আর্জি রাখা হবে বলেই তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর মিলেছে।
তদন্তের পরিধি বাড়তেই এই ঘটনায় নতুন করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির (ED) নজরও তৈরি হয়েছে। এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডি তাঁকে তলব করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার তদন্তেও তাঁর নাম জড়িয়ে পড়েছে বলে ইডি সূত্রে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। যদিও এই নির্দিষ্ট মামলায় এখনও পর্যন্ত ইডি তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করেনি, তবুও সিআইডির হাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জেনেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে আদালতে আবেদন জানিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
আদালতের আগের এক রায়ের পর শালবনির এই চাঞ্চল্যকর জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ খারিজ হয়ে যায়। এরপরই সিআইডির একটি বিশেষ দল সরাসরি তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সুমিত রায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় একেবারেই সহযোগিতা করছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।