অভিবাসী কর্মীদের রুখতে আধার-এর অনুকরণে ‘ব্রিট কার্ড’? গোপনীয়তা নিয়ে ব্রিটেনের নাগরিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ

সম্প্রতি ভারত সফরে এসে দেশের ডিজিটাল বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র আধার কার্ডের ব্যাপক সাফল্য দেখে অভিভূত হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। ভারতে এই ব্যবস্থার দ্রুত প্রচলন এবং প্রভাব নিয়ে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আধার বাস্তবায়নে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব নন্দন নীলেকানি-সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

আধার কার্ডের অনুকরণে ব্রিটেনেও এই ধরণের পরিষেবা চালু করার কথা ভাবছেন স্টার্মার, যার নাম হবে ‘ব্রিট কার্ড’।

ব্রিট কার্ডের উদ্দেশ্য ও বিতর্ক:

ভারতে আধার কার্ড যেখানে সরকারি প্রকল্প এবং কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়, সেখানে ব্রিটিশ সরকার প্রাথমিকভাবে অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে ‘ব্রিট কার্ড’ ব্যবহার করতে চায়।

জনতার উদ্বেগ: এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ নাগরিকেরা গোপনীয়তা, তথ্য সুরক্ষা এবং সরকারের অতিরিক্ত নজরদারির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যার ফলে ডিজিটাল আইডির প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সরকারের আশ্বাস: সমালোচনার জবাবে ব্রিটেন সরকারের একজন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন যে ভারতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তাব আনা হলেও, এর নকশা ভিন্ন হবে এবং এতে বায়োমেট্রিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র অবৈধ কাজ মোকাবেলা করার জন্য কর্মসংস্থানের জন্য আইডি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৌশলগত দিক:

ভারতে ১৫ বছরেরও বেশি সময় আগে চালু হওয়া আধার, ১২-সংখ্যার বায়োমেট্রিক আইডি নম্বর প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং এবং অন্যান্য পরিষেবাগুলিতে অ্যাক্সেস সহজ করেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধার ভারতীয় অর্থনীতিকে দুর্নীতির কারণে কোটি কোটি টাকা ক্ষতির হাত থেকেও বাঁচিয়েছে।

মুম্বই সফরের সময় স্টার্মার জানান, তাঁর আশা জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও ‘ব্রিট কার্ড’ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হবে। তবে বিরোধী দল এবং লেবার এমপিরা খরচ এবং গোপনীয়তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় ব্রিট কার্ড উদ্যোগটি ভবিষ্যতে আরও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy