অভাব মিটছে, বদলাচ্ছে চেনা ছবি! দুর্গাপুরের কুমোরটুলিতে নব প্রজন্মের আগমন, সুদিন ফিরছে মৃৎশিল্পে

অতীতের একাধিক দুঃশ্চিন্তা ও দুর্ভোগ কাটিয়ে দুর্গাপুরের কুমোরটুলিতে এবার এক নতুন আশার আলো দেখছেন মৃৎশিল্পীরা। শিল্পাঞ্চলে পাল্লা দিয়ে প্রতিটি পুজোর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় মাটির প্রতিমার চাহিদাও বেড়েছে। ফলস্বরূপ, সুখ্যাত মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা গড়ার বায়না পেলেও সহযোগী শিল্পী বা কারিগরের অভাবে বহু বায়না ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হতেন। বিশ্বকর্মা পুজো থেকেই প্রতিমা তৈরি করতে তাঁরা হিমশিম খেতেন। তবে বর্তমানে দুর্গাপুরের কুমোরটুলিতে একেবারেই উলটো চিত্র।

মৃৎশিল্পীদের দাবি, নব প্রজন্ম এখন মৃৎশিল্পে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তাঁরা মৃৎশিল্পী হতে এবং ভাল রোজগার করতে প্রতিমা গড়ার দিকে ঝুঁকছে। ফলে পুজোর মরশুমে প্রতিমার চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও এবার সহযোগী শিল্পী ও কারিগরের অভাব নেই বললেই চলে। এই পরিবর্তন মৃৎশিল্পের ভবিষ্যতের জন্য এক সুসংবাদ বয়ে এনেছে।

কেন বদলাচ্ছে পরিস্থিতি?
দুর্গাপুরের কুমোরটুলির খ্যাতনামা মৃৎশিল্পী অভিজিৎ পাল জানান, কয়েক বছর আগেও নব প্রজন্মের যুবকরা কেউই প্রতিমা তৈরির কাদামাটির কাজ করতে চাইত না। তাঁদের অনিহার কারণে দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী, সরস্বতী-সহ একাধিক প্রতিমার চাহিদা মেটাতে স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা সক্ষম হতেন না।

অভিজিৎ পাল বলেন, “আগে এই কাজ শুনলেই যুবকরা মুখ ফিরিয়ে নিত। কিন্তু বর্তমানে পুজোর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীদের প্রতিমা গড়ার চাপ বাড়লেও, বহু যুবক মৃৎশিল্পে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাঁরা কাজেও লাগছে। ফলে আমাদের সকল মৃৎশিল্পীরা একটু হলেও স্বস্তি ফিরে পাচ্ছেন।”

দুর্গাপুর কুমোরটুলির পরিচিতি
দুর্গাপুর শহরতলী জুড়ে শতাধিক মৃৎশিল্পী রয়েছেন। শহরের বুকে টাউনশিপের ট্রাঙ্করোড এলাকায় একসঙ্গে প্রায় ১৫টি কারখানা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই কুমোরটুলি। প্রায় ১৫ বছরের এই কুমোরটুলির মৃৎশিল্প ইতিমধ্যেই জেলা-সহ ভিনজেলায় সুনাম অর্জন করেছে। দিনে দিনে যেমন পুজোর সংখ্যা বাড়ছে, তেমনই এই শিল্পের বাজারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নব প্রজন্মের এই আগ্রহ দুর্গাপুরের মৃৎশিল্পের জন্য যেন এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।