অব্যবস্থা চরমে, কুরুভাই ধান বিক্রি হচ্ছে না, খোলা আকাশের নিচে ধানের পাহাড়; ক্ষতির আশঙ্কায় ঘুম ছুটেছে কৃষকদের

চেন্নাই/ডেল্টা অঞ্চল: রেকর্ড ফলন করেও মহাবিপদে তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) ডেল্টা অঞ্চলের কৃষকরা। কুরুভাই ধান (Kuruvai Paddy) কাটার কাজ প্রায় শেষ হলেও, সরকারের পক্ষ থেকে ধান কেনার (Procurement) চরম ঢিলেমির কারণে খেতের ফসল স্তূপীকৃত হয়ে পড়ে রয়েছে সরাসরি ক্রয় কেন্দ্রগুলির (DPCs) বাইরে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং সমন্বয় না থাকার ফলে লক্ষ লক্ষ কৃষক বর্তমানে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

সংকটের কারণ কী?

এই বছর কুরুভাই ধানের চাষ রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত ৩.৮৭ লক্ষ একর জমিতে চাষ হলেও, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৩১ লক্ষ একরে। কিন্তু সেই অনুপাতে ধান কেনার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না।

সরকারি হিসেব বলছে, ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেলেও, এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ ধান TNCSC (Tamil Nadu Civil Supplies Corporation) দ্বারা কেনা সম্ভব হয়েছে। বাকি লক্ষ লক্ষ বস্তা ধান খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে, যার ফলে প্রতিটি ক্রয় কেন্দ্রের বাইরে জমছে ধানের বিশাল স্তূপ। একেকটি কেন্দ্রে প্রায় ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ বস্তা (৪০ কেজি ব্যাগ) ধান বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে।

পাঁচ ম্যানেজিং ডিরেক্টর বদল!

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চরম ব্যর্থতার প্রধান কারণ হলো প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা। জানা যাচ্ছে, এই বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে TNCSC-এর পাঁচ জন ম্যানেজিং ডিরেক্টর (MD) বদল করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের এই ঘন ঘন পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছে, যার ফল ভুগতে হচ্ছে থাঞ্জাভুর, তিরুভারুর, ময়িলাদুথুরাই এবং নাগাপট্টিনমের মতো জেলার কৃষকদের।

বৃষ্টি ও বস্তার অভাবে সর্বনাশ!

প্রচুর পরিমাণে ধান কেনার জন্য পর্যাপ্ত চটের বস্তা (Gunny Bag) নেই। প্রশাসন পশ্চিমবঙ্গ থেকে বস্তা আনার দাবি জানালেও, মাঠের চিত্র বলছে অন্য কথা। বস্তার অভাব এবং গুদামে নিয়ে যাওয়ার জন্য লরির অপ্রতুলতার কারণে ধান মজুত ও পরিবহণ মারাত্মকভাবে ধীরগতিতে চলছে।

এর মধ্যে ডেল্টা অঞ্চলে শুরু হয়েছে লাগাতার বৃষ্টি। খোলা জায়গায় ধানের স্তূপ ভিজে গিয়ে অনেক কেন্দ্রেই ধান অঙ্কুরিত (Sprouting) হতে শুরু করেছে। महीनों ধরে পরিশ্রমের ফসল নষ্টের মুখে দেখে কৃষকদের মাথায় হাত। বহু কৃষক দিনের পর দিন ডিপিসির সামনে অপেক্ষা করছেন।

এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন। দীপাবলির পরেই যেন পুরোদমে ধান কেনা শুরু করা হয়, তার দাবি তুলেছেন তাঁরা। কারণ, উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু (Northeast Monsoon) আরও সক্রিয় হলে ধানের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

এই বিষয়ে আপনার কী মত? কমেন্ট করে জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy