এক যুগান্তকারী রায়ে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে, সন্তান বৈধ হোক বা অবৈধ—পিতার কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার তার জন্মগত। পারিবারিক বিবাদ বা অনৈতিকতার দোহাই দিয়ে কোনো বাবা তাঁর সন্তানের প্রতি দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারার মূল লক্ষ্যই হলো শিশুদের পরিত্যক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মামলাটির সূত্রপাত এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস পর এক সন্তানের জন্ম দেন স্ত্রী। স্বামী দাবি করেন, ওই সন্তান তাঁর নয়, তাই তিনি ওই শিশুর ভরণপোষণের খরচ বহন করবেন না। নিম্ন আদালত স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলেও সন্তানকে মাসে ১,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। কিন্তু হাইকোর্ট তাঁর আর্জি খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখে।
বিচারপতিদের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যক্তিগত তিক্ততা বা অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু তার প্রভাব কোনো শিশুর আইনি অধিকারে পড়তে পারে না। আইনি বিশেষজ্ঞরা এই রায়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এই রায় শিশুদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় মাইলফলক। এখন থেকে ‘অবৈধ’ তকমা দিয়ে কোনো পিতাই আইনি দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন না, যা ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত অসংখ্য মামলার দিশারি হয়ে উঠবে।





