অবাক কাণ্ড বীরভূমে! স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ককে স্বীকৃতি, বন্ধুর সঙ্গেই দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দিলেন স্বামী

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে দাম্পত্য ভাঙার পর সাধারণত যে ধরনের সংঘাত দেখা যায়, বীরভূমের সাঁইথিয়ায় ঘটল তার সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনা। সেখানে এক যুবক নিজের বন্ধুর সঙ্গে প্রেম করা স্ত্রীকে হেনস্তা না করে, উল্টে নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে তাঁদের বিয়ে দিলেন। এই অভিনব ঘটনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে সাঁইথিয়ার শহরবাসী এবং জেলাজুড়ে।
ঘটনার বিবরণ: সাঁইথিয়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাপি মণ্ডলের সঙ্গে ৯ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৭ সালে বিয়ে হয়েছিল তারাপীঠের পঞ্চমী মণ্ডলের। তাঁদের ৭ বছরের একটি পুত্রসন্তানও আছে। দীর্ঘ দাম্পত্যকলহের জেরে পঞ্চমী মাস আটেক আগে বাপের বাড়িতে চলে যান এবং স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলাও করেন।
জানা যায়, দাম্পত্য অশান্তির মধ্যেই পঞ্চমী মণ্ডল তাঁর স্বামী বাপি মণ্ডলের বন্ধু জিৎ কুমার মির্ধার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। জিতের বাড়ি সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে।
স্বামীর অভিনব সিদ্ধান্ত: বাপি মণ্ডল যখন জানতে পারেন যে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ডিভোর্স দেবেন এবং বন্ধুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে, তখন তিনি পঞ্চমীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবার মেয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। এরপর এদিন, সাঁইথিয়া বাইপাসের কাছে বাপি মণ্ডল তাঁর স্ত্রী ও বন্ধুকে একসঙ্গে দেখতে পান। তখন তিনি কোনও সংঘাত না করে তাঁদের সংশ্লিষ্ট সতীপীঠের অন্যতম নন্দকেশরী মন্দিরে নিয়ে গিয়ে নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে তাঁদের বিয়ে দিয়ে দেন।
বিয়ে দেওয়ার পর বাপি মণ্ডল, পঞ্চমী এবং জিৎ কুমার মির্ধা সাঁইথিয়া থানায় যান এবং লিখিত শর্ত মেনে নেন। শর্ত অনুযায়ী, পঞ্চমী মণ্ডল বাপি মণ্ডলের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন এবং তাঁদের সাত বছরের সন্তান বাবার কাছেই থাকবে।
বাপি মণ্ডলের বক্তব্য: বাপি মণ্ডল বলেন, “কয়েক মাস ধরেই আমাদের মধ্যে অশান্তি চলছিল। রবিবার আমি জানতে পারি আমার বউ আমাকে ডিভোর্স দেবে। আমি দুই পরিবারের সঙ্গেই কথা বলি। এরপর এদিন ওদের দুজনকে এক সঙ্গে ধরি এবং নন্দকেশরী মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিয়ে দিই। তারপর থানায় নিয়ে যাই, লিখিত দিই। যেহেতু দুজনেই সাবালক তাই ওরা সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে আমার সন্তান আমার কাছে থাকবে।”
যে কারণেই হোক না কেন, বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দিয়ে চার হাত এক করে দেওয়ার এই ঘটনায় সাঁইথিয়ার শহরবাসী এক অন্যরকম ঘটনার সাক্ষী থাকল।