অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পর ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই বর্ষা কেরালা এবং লাক্ষাদ্বীপের সম্পূর্ণ অংশে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশেও বর্ষার আগমন ঘটেছে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বর্ষা এগিয়ে যাবে গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের বাকি অংশের দিকে। সমান্তরালভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতেও বর্ষার বর্ষণ শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ—উভয় ক্ষেত্রেই আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির দাপট জারি থাকবে। প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইবে। তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে আজ শুক্রবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনি ও রবিবার কোচবিহার ও কালিম্পং সহ সংলগ্ন এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এখানে ভ্যাপসা গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি এখনও অব্যাহত। তবে তার মাঝেই বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়ার সাথে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বৃষ্টির ফলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, সামগ্রিক তাপমাত্রা বিশেষ কমার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
শনিবার দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমলেও, রবিবার থেকে ফের সক্রিয় হবে আবহাওয়া। রবিবার মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। সোম ও মঙ্গলবারও নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সব মিলিয়ে, রাজ্যজুড়ে আগামী কয়েকদিন বাতাসের আর্দ্রতা এবং ঝোড়ো হাওয়ার লুকোচুরি চলবে। যারা বাইরে বেরোচ্ছেন, তাদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।





