বাংলার রাজনীতির পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) অন্দরে ‘অপারেশন টাইগার’ নামে একটি রহস্যময় রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। সূত্রের দাবি, দলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদ দলত্যাগ করে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা শিবিরে যোগ দিতে পারেন।
জল্পনার কেন্দ্রে কতজন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, উদ্ধব ঠাকরের দল থেকে ১৪ থেকে ১৬ জন বিধায়ক এবং অন্তত ৭ জন সাংসদ বিদ্রোহী মনোভাব পোষণ করছেন। এই দলবদলের প্রক্রিয়া আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। তবে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতৃত্ব এই সমস্ত জল্পনাকে দৃঢ়ভাবে খারিজ করেছে।
দলীয় নেতৃত্বের অবস্থান: পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধব ঠাকরে ইতিমধ্যেই দলের সাংসদদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, দলের সমস্ত সাংসদ উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ এবং কোনো ভাঙনের সম্ভাবনা নেই। বরং তিনি এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পালটা ‘অপারেশন উলফ’ (Operation Wolf) শুরুর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘অপারেশন টাইগার’ শব্দটি শাসক জোটের (মহাযুতি) পক্ষ থেকে উদ্ধবের শিবিরকে চাপে রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই দলবদলের জল্পনা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও অনেকটা একই ধরণের বিদ্রোহ ও দলবদলের ঘটনা ঘটেছিল, যা বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ঐক্যের ভিতকে আরও একবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আগামী ২২ জুন, রাজ্যের বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন উদ্ধব ঠাকরে দলের সমস্ত বিধায়ক ও এমএলসি-দের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই বৈঠক থেকেই উদ্ধবের দল নিজের শক্তিক্ষয় রোধে বড় কোনো রণকৌশল ঘোষণা করতে পারে।





