‘অপরাধীদের খুঁজে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেব’, হামলার পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে রেড সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি Hyundai i20 গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশেপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে, এবং এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, বহু মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা: এই ঘটনার পর মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে দিল্লি পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, এবং গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অমিত শাহ এক কঠোর বার্তায় বলেন, “এই হামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক অপরাধীকে খুঁজে বার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র যারা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি ঘোষণা করেন যে, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাস দমনকারী সংস্থা NIA (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি)-কে এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাস যোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য: তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নাশকতার ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি নিবন্ধিত ছিল কাশ্মীরের চিকিৎসক ড. উমর উন নবী-র নামে। পুলিশ জানতে পেরেছে যে উমর নবি পূর্বে ফরিদাবাদে প্রকাশ্যে আসা এক সন্ত্রাসী মডিউলের সঙ্গে যুক্ত দুই কাশ্মীরি চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছিলেন। ওই মডিউল ফাঁস হওয়ার সময় প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল। এই সূত্র ধরেই লালকেল্লার বিস্ফোরণের সঙ্গে সন্ত্রাস যোগের সম্ভাবনা জোরদার হয়।

পুলওয়ামায় অভিযান: ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ড. উমর উন নবী-র খোঁজে পুলওয়ামা জেলার কোইল গ্রামে রাতভর অভিযান চালায়। সেখান থেকে ছ’জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে তিনজন ড. উমর উন নবী-র পরিবারের সদস্য।

নিখোঁজ উমর: ড. উমর বেশ কিছুদিন ধরেই নিখোঁজ রয়েছেন এবং গোয়েন্দারা তাঁর ফোন কলের রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত সংস্থার ধারণা, এটি একটি সুপরিকল্পিত নাশকতার অংশ এবং বৃহত্তর আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসী চক্রের যোগ থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

নিরাপত্তা জোরদার: এই ঘটনার পর দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং কাশ্মীরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, মেট্রো টার্মিনাল, জনবহুল বাজার ও স্পর্শকাতর অঞ্চলে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি CRPF ও NSG কমান্ডোদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছে প্রশাসন।