‘অন্য দেশের দিকে নজর দিন, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবেন না!’ জাতিসংঘের তোপের জবাবে গর্জে উঠল ভারত

জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র পরিকল্পিত অবস্থান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তাপ। বিক্ষোভ দমন ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রায় ৩,০০০ আন্দোলনকারী, সাংবাদিক, আইনজীবী ও বিরোধী নেতাদের আটক করার ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চের এই মন্তব্যকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত ও অবান্তর হস্তক্ষেপ’ বলে কড়া ভাষায় খারিজ করে পাল্টা তোপ দেগেছে ভারত।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার, যখন সিজেপি-র আহ্বানে দিল্লিতে বিশাল আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের ভিড় সামলাতে ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন গণপরিবহনে বিধিনিষেধ জারি করে এবং বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এই ধরপাকড় ও বিধিনিষেধ নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা উচিত এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে।”
জাতিসংঘের এই প্রতিক্রিয়ায় তীব্র বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দিয়েছে। তবে যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যুক্তিসঙ্গত আইনি বিধিনিষেধ আরোপের পূর্ণ অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। নয়া দিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিরপেক্ষতার মর্যাদা রক্ষা করে জাতিসংঘের উচিত বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের বড় বড় আন্দোলনের দিকে নজর দেওয়া, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা নয়।