বিশ্ব রাজনীতিতে প্রবাদ আছে— ‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে এই প্রবাদটিই যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হলো উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যখন ইউক্রেন বিধ্বস্ত এবং রাশিয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত, ঠিক সেই সময়েই ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল কিম জং উনের। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, রাশিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রি করে পিয়ংইয়ংয়ের আয় হয়েছে প্রায় ১৪০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি)।
কিমের ভাণ্ডারে কেন লক্ষ্মীলাভ? রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় পুতিন বাহিনীকে বিশাল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং কামানের গোলার সংকটে পড়তে হয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতেই ক্রেমলিন হাত বাড়িয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু উত্তর কোরিয়ার দিকে।
অস্ত্রের জোগান: উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার হাতে প্রায় ৯৪ লক্ষ কামানের গোলা এবং কয়েক হাজার স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল তুলে দিয়েছে বলে খবর।
বিশাল আয়: এই বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্রের বিনিময়ে কিমের দেশ কেবল নগদ ডলারই পায়নি, পেয়েছে জ্বালানি তেল, খাদ্যশস্য এবং উন্নত প্রযুক্তির সামরিক সহায়তা।
অর্থনীতির ভোলবদল: টানা কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং খরা-দুর্ভিক্ষের কবলে থাকা উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে এই ১৪০০ কোটি ডলার যেন ‘সঞ্জীবনী সুধা’। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক বছরের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার জিডিপি (GDP) এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। কিম জং উন এই অর্থ ব্যবহার করছেন তাঁর পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে।
বিশ্বের উদ্বেগ: পিয়ংইয়ং এবং মস্কোর এই গভীর মাখামাখি রক্তচক্ষু দেখাচ্ছে পশ্চিমি দুনিয়াকে। আমেরিকার দাবি, কিমের অস্ত্র রাশিয়ার হাতে যাওয়া মানে ইউক্রেন যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়া। অন্যদিকে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তর কোরিয়াকে আরও শক্তিশালী ও বেপরোয়া করে তুলবে, যা দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একদিকে ধ্বংসের খেলায় মেতেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া, আর সেই ধ্বংসের অস্ত্র সাপ্লাই করেই এখন বিশ্বের অন্যতম ‘ধনী’ ওয়ার-ইকোনমি হয়ে উঠছে কিমের উত্তর কোরিয়া। যুদ্ধের এই চরম বৈপরীত্যই এখন আন্তর্জাতিক মহলের সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়।





