“অন্নপূর্ণা ও বার্ধক্য ভাতার বাম্পার ধামাকা!”-নবান্ন থেকে তারিখ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

উৎসবে মেতে ওঠার আগেই রাজ্যবাসীর জন্য এল বিরাট সুখবর। দীপাবলির আগেই রাজ্যের কোটি কোটি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারসহ সমস্ত সামাজিক সুরক্ষামূলক ভাতার টাকা। নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বড়সড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দীপাবলির আগেই অন্নপূর্ণা যোজনা, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা এবং লোকশিল্পী ভাতার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে।’
৭ নভেম্বরের মধ্যেই মিলবে টাকা: তারিখ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
পুজোর আনন্দে যাতে বিন্দুমাত্র খামতি না থাকে, তার জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৭ নভেম্বরের আগেই:
১ কোটি ৬৫ লক্ষ অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা,
৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা প্রাপক, এবং
৩ লক্ষ ২০ হাজার লোকপ্রসাদ শিল্পী ভাতা প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর সময়ও উৎসবের কথা মাথায় রেখে পঞ্চমীর দিন (১৫ অক্টোবর) ভাতার টাকা হস্তান্তরিত করা হয়েছিল। তবে এবার কালীপুজো ও ভাইফোঁটা থাকায় আরও এক সপ্তাহ আগেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ভাতা পাঠানোর ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার।
বার্ধক্য ভাতা বেড়ে হতে পারে ২০০০ টাকা!
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ইতোমধ্যেই সামাজিক ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আগের সরকারের আমলে যেখানে মাসে ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো, বর্তমানে সেই বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১,৫০০ টাকা।
এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী অর্থবর্ষের নতুন বাজেটে এই ভাতার পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, ১,৫০০ টাকা থেকে সরাসরি তা ২,০০০ টাকা করা হতে পারে।
নভেম্বরেও অন্নপূর্ণার ৩,০০০ টাকা, ডিসেম্বরে বসছে নতুন আবেদনের শিবির
অক্টোবর মাসে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের পঞ্চম কিস্তির ৩,০০০ টাকা মহিলারা পেয়েছিলেন। নভেম্বরেও যথারীতি ১ কোটি ৬৫ লক্ষ মহিলা অ্যাকাউন্টে পাবেন ৩,০০০ টাকা।
তবে এখনও যে সমস্ত যোগ্য মহিলারা টেকনিক্যাল বা অন্যান্য কারণে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের আশ্বস্ত করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং যোগ্য কোনও উপভোক্তাই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জন্য রয়েছে আরও একটি বড় খবর। আগামী ডিসেম্বর মাসে তিন দিনের জন্য বসবে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’। সেখান থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনা ও বার্ধক্য ভাতার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির জন্য নতুন করে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।