“অতিরিক্ত ওষুধের জেরে মর্মান্তিক মৃত্যু? এনআরএসের নার্সের রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে!”

এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নার্সিং স্টাফ রুপালি বর্মনের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগের সম্ভাবনার কথা উঠে আসায় মৃত্যুর আসল কারণ ঘিরে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অক্সিজেনের অভাবে ওই নার্সের চোখের সাদা অংশ, নখ এবং জিভের একাংশ নীলচে হয়ে গিয়েছিল বলেও প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। তবে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। পুলিশ ও তদন্তকারীরা এখন ফরেন্সিক এবং প্যাথলজি পরীক্ষার চুড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, ৩০ বছর বয়সি রুপালি গত বুধবার রাতে গাইনি বিভাগের এইচডিইউতে (HDU) নাইট ডিউটিতে ছিলেন। রোগীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়ার পর তিনি হাসপাতালের শৌচালয়ে যান। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও তিনি নার্সিং স্টেশনে ফিরে না আসায় সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপর খোঁজাখুঁজি শুরু হলে দেখা যায় শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ রয়েছে। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ওষুধ ও সিরিঞ্জ: ঘটনাচক্রে, যে শৌচালয় থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখান থেকে বেশ কিছু ওষুধের ভায়াল এবং সিরিঞ্জ উদ্ধার হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, ওই ওষুধগুলির মধ্যে অবচেতন বা অচেতন করার কাজে ব্যবহৃত শক্তিশালী ওষুধও ছিল। পাশাপাশি রুপালির হাতে ইনজেকশন দেওয়ার স্পষ্ট চিহ্নও দেখা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তদন্তকারীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে যে, ওই ওষুধগুলি তাঁর কাছে কীভাবে এল? কে বা কারা সেগুলি সরবরাহ করেছিল? এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে সেই ওষুধ তাঁর শরীরে প্রবেশ করল?

পরিবারের ইচ্ছায় এনআরএস-এর পরিবর্তে গত বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে রুপালির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট খতিয়ান না মেলায় এবং শরীরে অন্য কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকায় এটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে, তা নিয়ে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশি তৎপরতা ও সিসিটিভি তল্লাশি: ওষুধের উৎস খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভায়ালগুলি হাসপাতালের কোন বিভাগ বা স্টক থেকে এল, তা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং হিসাব-নিকাশে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, ঘটনার রাতে গাইনি বিভাগের সংশ্লিষ্ট অংশে কারা উপস্থিত ছিলেন, রুপালির সঙ্গে শেষ কার কার কথা হয়েছিল এবং তাঁর গতিবিধি কী ছিল, তা জানতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে ইতিমধ্যেই একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ক্যামেরার তথ্য হাতে এলেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর আসল রহস্য ভেদ হবে বলে মনে করছে পুলিশ।