মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার এক নতুন ত্রাসের নাম ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ (Dancing Missile)। ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা এই বিশেষ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র এখন ঘুম কেড়েছে বিশ্বের দুই মহাশক্তি আমেরিকা ও ইজরায়েলের। একে ‘ড্যান্সিং’ বা নাচুনে ক্ষেপণাস্ত্র বলা হচ্ছে তার অদ্ভুত গতির কারণে। প্রথাগত মিসাইল যেভাবে সোজা পথে যায়, এটি তেমন নয়; বরং আকাশপথে আঁকাবাঁকা পথে বা ‘জিগ-জ্যাগ’ মোশনে এগোতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ আগে থেকে অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। ইজরায়েলের গর্বের ‘আয়রন ডোম’ বা আমেরিকার ‘প্যাট্রিয়ট’ ডিফেন্স সিস্টেম মূলত কাজ করে আগত মিসাইলের নির্দিষ্ট ট্র্যাজেক্টরি বা গতিপথ গণনা করে। কিন্তু ইরানের এই ড্যান্সিং মিসাইল মাঝ আকাশে হঠাতই নিজের দিক পরিবর্তন করতে পারে, যা যেকোনো রাডার বা ইন্টারসেপ্টরকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
হাইপারসনিক গতি এবং এই সর্পিল গতির মিশেল ইরানকে এক অনন্য সামরিক সুবিধা দিয়েছে। তেহরানের দাবি, এই ব্রহ্মাস্ত্রের সামনে বিশ্বের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ১০০ শতাংশ কার্যকর নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে ঝুঁকে পড়বে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। আমেরিকা কি পারবে এই ‘নাচুনে’ শত্রুকে রুখতে? প্রশ্নটা এখন ওয়াশিংটনের অন্দরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।