মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনা সংক্রান্ত একটি খবরকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি একটি ভাইরাল হওয়া বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন শরদ পাওয়ার শিবিরের নেতা তথা অজিত পাওয়ারের ভাইপো রোহিত পাওয়ার। তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, অজিত পাওয়ার একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, গুজবটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাঁর মৃত্যুর খবরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে রোহিত পাওয়ারের একটি বয়ান আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। রোহিত পাওয়ারকে যখন এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি কার্যত ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “দাদার (অজিত পাওয়ার) মৃতদেহ পাওয়া যায়নি।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু রহস্যজনক মন্তব্য ঘি ঢেলেছে বিতর্কের আগুনে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই অজিত পাওয়ারের জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী কোথায়? সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই কি এমন কোনো দুর্ঘটনার তত্ত্ব খাড়া করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহল তুঙ্গে। ডেইলিহান্ট-এর পাঠকদের জন্য জানিয়ে রাখা ভালো, রোহিত পাওয়ারের এই মন্তব্যটি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করা কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। কারণ, মহারাষ্ট্রের রাজনীতির সমীকরণ বর্তমানে অত্যন্ত জটিল। কাকা বনাম ভাইপোর লড়াইয়ে অজিত পাওয়ার এবং রোহিত পাওয়ার প্রায়ই একে অপরের বিরুদ্ধে তীর্যক মন্তব্য করে থাকেন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অজিত পাওয়ারের দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক শিলমোহর দেওয়া হয়নি। অজিত পাওয়ারের অনুগামীরা এই খবরকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ এবং ‘নোংরা রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, অজিত পাওয়ার সুস্থ আছেন এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো বিশেষ কারণে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে পারেন। কিন্তু রোহিত পাওয়ারের মতো একজন দায়িত্বশীল নেতা যখন “বডি পাওয়া যায়নি” এমন মন্তব্য করেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো স্বাভাবিক।
এই খবরটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং। মহারাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বোদ্ধারা—সবার নজর এখন মুম্বইয়ের ক্ষমতার অলিন্দে। অজিত পাওয়ার কি সত্যিই কোনো বিপদে পড়েছেন, নাকি এটি কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ? রোহিত পাওয়ারের এই বিস্ফোরক দাবির পর অজিত শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটাই এখন দেখার।