মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা। বুধবার সকালে পুনের বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে সেই অভিশপ্ত মুহূর্তের হাড়হিম করা বর্ণনা। জানা গিয়েছে, রানওয়েতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগেই বিমানটি আকাশে অস্বাভাবিকভাবে চক্কর কাটছিল এবং অবতরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই ঘটে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়।
আকাশে চক্কর ও নিয়ন্ত্রণ হারানো স্থানীয় এক মহিলা প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বুধবার সকালে তিনি বিমানটিকে বারামতি বিমানবন্দরের আকাশে বেশ কয়েকবার চক্কর কাটতে দেখেন। তাঁর মতে, “বিমানটিকে দেখে খুব অস্থির মনে হচ্ছিল। এটি রানওয়ের দিকে আসার সময় হঠাৎ একদিকে হেলে যায় এবং সজোরে মাটিতে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই একটি বিকট শব্দ এবং তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বিমানের ছোট ছোট অংশ আমাদের বাড়ির কাছেও উড়ে এসে পড়ে।”
পরপর ৫টি বিস্ফোরণ ও আগুনের গোলা অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমানটি যখন রানওয়ে থেকে মাত্র ১০০ ফুট উপরে ছিল, তখনই বোঝা যাচ্ছিল যে পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। মাটিতে আছড়ে পড়ার পর মুহূর্তে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। উপস্থিত মানুষজন সাহায্যের জন্য দৌড়ে যাওয়ার আগেই পরপর ৪ থেকে ৫টি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা বিমানটি আগুনের গোলায় পরিণত হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয়দের বিমানের কাছে যেতে বাধা দেয় পুলিশ।
কী ঘটেছিল বুধবার সকালে? ফ্লাইট রাডার এবং পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারের উদ্দেশ্যে অজিত পাওয়ার মুম্বই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন। সকাল ৮টা ১০ মিনিটে বিমানটি মুম্বই থেকে টেকঅফ করে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রাডার থেকে বিমানটি অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ৮টা ৫০ মিনিটে এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে অজিত পাওয়ার-সহ মোট ৫ জন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরই সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই জনপ্রিয় নেতার মৃত্যুতে স্তব্ধ মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল।