সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার নামে প্রতিটি স্মার্টফোনে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-ইনস্টল করার নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিকম মন্ত্রক। সোমবার সন্ধ্যায় জারি করা এই নির্দেশিকায় মোবাইল নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে কড়া বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় মূল বার্তা:
নতুন ফোনের ক্ষেত্রে: প্রতিটি মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাকে তাঁদের নির্মিত মোবাইলে এই অ্যাপটি আগে থেকে ইনস্টল করা অবস্থায় রাখতে হবে।
সীমাবদ্ধতা: অ্যাপটি ডিলিট বা ডিজেবল করার কোনও অপশন রাখা যাবে না এবং এটি সর্বক্ষণ ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকবে। গ্রাহককে এই অ্যাপটি নিয়ে অন্ধকারে রাখা যাবে না, অর্থাৎ অ্যাপটি ‘ভিজিবল’ থাকতে হবে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক—পুরনো ফোনে ইনস্টল করার প্রক্রিয়া:
যে সকল স্মার্ট ফোন ইতিমধ্যেই বাজারে বিক্রি হয়ে গিয়েছে এবং ইউজাররা ব্যবহার করছেন, সেগুলিতেও বাধ্যতামূলকভাবে এই অ্যাপটি ইনস্টল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা একটি ‘সফ্টওয়্যার আপডেটের’ মাধ্যমে অ্যাপটিকে গ্রাহকের ‘বিনা অনুমতিতে’ ইনস্টল করিয়ে দেবে। এই কাজের জন্য দেশের অন্দরে মোবাইল নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, ১২০ দিনের মাথায় এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের রিপোর্টও পেশ করতে হবে সংস্থাগুলিকে।
চলতি বছরের শুরুতেই কেন্দ্র এই অ্যাপটি প্রকাশ করে সাইবার সুরক্ষার কথা বললেও, আচমকাই এই বাধ্যতামূলক নির্দেশিকায় বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবির এই পদক্ষেপকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে দেখছে। এদিন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র বিরোধিতা করে লিখেছেন, “ফোনের মধ্যে আগে থেকে ইনস্টল করা সরকারি অ্যাপ আসলেই রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতিয়ার। এটিকে আবার আনইনস্টল করারও কোনও সুযোগ নেই। এটি প্রতিটি নাগরিকের গতিবিধির উপরেই নজরদারি চালাতেই তৈরি হয়েছে।”