৮ বছরের ‘পুত্রবৎ’ স্নেহের বিষাক্ত পরিণতি, মুজফফরনগরে সাধুর ২৮ লাখ টাকা লুটে গ্রেফতার হাসিম ও তার গ্যাং!

উত্তর প্রদেশের মুজফফরনগরের ভোপা থানা এলাকায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা। যাকে গত ৮ বছর ধরে নিজের ছেলের মতো স্নেহ দিয়ে বড় করেছিলেন নির্মোহী আখাড়ার সাধু বিষ্ণু দাস, সেই মহম্মদ হাসিমই তাঁর পিঠে ছুরি মারল। গো-শালার জমি কেনার নাম করে সাধুর পৈতৃক জমি বিক্রির ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল হাসিম ও তার সাত সদস্যের প্রতারক চক্র।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সাধু বিষ্ণু দাস নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি গো-শালা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেন। সাধুর অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে হাসিম জানায়, তার চেনা পরিচিতের মাধ্যমে খুব সস্তায় ভালো জমি পাওয়া যাবে। সরল বিশ্বাসে সাধু দফায় দফায় হাসিমের হাতে টাকা তুলে দেন। জালিয়াতিতে দক্ষ হাসিম ও তার সঙ্গীরা জাল আধার কার্ড ও ভুয়ো নথি তৈরি করে সাধুকে প্রতারিত করে। কিন্তু জমি হস্তান্তরের সময় আসতেই শুরু হয় টালবাহানা। এমনকি টাকা ফেরত চাইলে সাধুকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিষ্ণু দাস থানায় অভিযোগ দায়ের করলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এসএসপি সঞ্জয় বর্মার নির্দেশে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসিম-সহ প্রবীণ, দিলশাদ, সুখবিন্দরদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২২ লক্ষ টাকা নগদ ও জালিয়াতির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর আশ্রমে থেকে সাধুর সেবা করার অভিনয় করে এই বেইমানি স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy