উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি খাঁজে লুকিয়ে থাকা আধ্যাত্মিক বিস্ময় ‘বদ্রীনাথ ধাম’। চারধাম যাত্রার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই তীর্থস্থানকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। প্রতি বছর শীতের প্রকোপে ৬ মাস বন্ধ থাকার পর যখন মন্দিরের দরজা খোলে, তখন সেখানে ঢল নামে লক্ষ লক্ষ মানুষের। তবে আপনি কি জানেন, এই মন্দিরের চাবি কার কাছে থাকে বা কেন এখানে দেবর্ষিদের পুজোর কথা বলা হয়? বদ্রীনাথ মন্দির খোলার প্রাক্কালে জেনে নিন এমন ৪টি তথ্য যা আপনাকে অবাক করবেই!
১. মন্দিরের চাবির দায়িত্ব কার? বদ্রীনাথ মন্দিরের চাবি কোনো সাধারণ মানুষের কাছে থাকে না। নিয়ম অনুযায়ী, এই মন্দিরের চাবি থাকে টিহরি গাড়ওয়ালের মহারাজার অধীনে। মন্দির খোলার দিন একটি বিশেষ শোভাযাত্রার মাধ্যমে সেই চাবি আনা হয় এবং নির্দিষ্ট রীতি মেনে ‘রাওয়াল’ বা প্রধান পূজারি মন্দিরের গর্ভগৃহের দরজা খোলেন।
২. শীতেও জ্বলে ‘অখণ্ড জ্যোতি’ শীতকালে যখন মন্দির বরফে ঢেকে যায় এবং ৬ মাস কোনো মানুষ সেখানে থাকে না, তখন মন্দিরের ভেতরে একটি তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হয়। একে বলা হয় ‘অখণ্ড জ্যোতি’। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দীর্ঘ ৬ মাস পর যখন পুনরায় মন্দির খোলা হয়, তখন সেই প্রদীপটি একইভাবে জ্বলতে দেখা যায়! বিশ্বাস করা হয়, মানুষের অনুপস্থিতিতে দেবতারা সেখানে পুজো করেন।
৩. তপ্ত কুণ্ডের রহস্য বদ্রীনাথ মন্দিরের ঠিক নিচেই রয়েছে ‘তপ্ত কুণ্ড’। পাহাড়ি এলাকায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেও এই কুণ্ডের জল সবসময় ফুটন্ত থাকে। ভক্তরা মন্দিরে প্রবেশের আগে এই প্রাকৃতিক গরম জলে স্নান করেন। বিজ্ঞানের কাছে আজও এটি একটি বড় রহস্য যে, বরফশীতল পরিবেশে এই জল কীভাবে সবসময় গরম থাকে।
৪. নারায়ণের তপস্যা ও বদ্রী গাছ পুরাণ মতে, ভগবান বিষ্ণু যখন হিমালয়ে কঠোর তপস্যা করছিলেন, তখন দেবী লক্ষ্মী তাঁকে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ‘বদ্রী’ (কুল) গাছের রূপ ধারণ করেছিলেন। দেবীর এই আত্মত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু এই স্থানের নাম দেন ‘বদ্রীনাথ’। আজও এই মন্দিরে ভগবান বিষ্ণু ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বিরাজমান।





