২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে যে দাবানল জ্বলে উঠেছে, তার আঁচ এবার টের পাচ্ছে খোদ হোয়াইট হাউস। মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের মাত্র ৬ দিন অতিক্রান্ত। কিন্তু এই সামান্য সময়ের মধ্যেই আমেরিকার রাজকোষে যে টান পড়েছে, তা দেখে চোখ কপালে উঠছে তাবড় অর্থনীতিবিদদের। পেন্টাগন থেকে আসা প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৪৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ মাত্র ৬ দিনের যুদ্ধে মার্কিন সেনার খরচ হয়েছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি! ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকার ওপর।
মার্কিন প্রশাসনের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, এই খরচের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত যুদ্ধাস্ত্রের পেছনে। যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টাতেই ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ খরচ করে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী। শুধু তাই নয়, বি-২ স্টিলথ বোম্বার থেকে শুরু করে এফ-৩৫ ফাইটার জেটের প্রতিটি উড়ানে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা সাধারণের কল্পনার বাইরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক একটি বি-২ বোম্বার আকাশে ওড়াতে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি ঘণ্টায় খরচ হচ্ছে কয়েক লক্ষ ডলার।
তবে এই ধ্বংসলীলার প্রভাব শুধু পেন্টাগনের ব্যালেন্স শিটে সীমাবদ্ধ নেই। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে আমেরিকায় পেট্রোলের দাম এক ধাক্কায় গ্যালন প্রতি ৪৮ সেন্ট বেড়ে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভারতসহ গোটা বিশ্বের বাজারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের কাছে ৫০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত জরুরি তহবিলের দাবি জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু মার্কিন সেনার এই ‘বার্ন রেট’ বা টাকা ওড়ানোর গতি যদি বজায় থাকে, তবে যুদ্ধের খরচ আগামী কয়েক সপ্তাহে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে চিন্তিত খোদ রিপাবলিকান শিবিরও। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে অস্ত্রের ভাণ্ডার ফুরিয়ে আসা এবং অন্যদিকে ঋণের বোঝা— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ হতে পারে মার্কিন অর্থনীতি।