২০২৬ সালের পর ভারতের সংসদীয় রাজনীতির খোলনলচে বদলে যেতে পারে। ভারতের লোকসভা আসনের সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ বা তারও বেশি করার পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে এই আসন বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’ প্রক্রিয়া ঘিরেই এখন দানা বাঁধছে তীব্র বিতর্ক। কিন্তু কেন এই বিভেদ? কেন দক্ষিণের রাজ্যগুলো এই সিদ্ধান্তে সিঁদুরে মেঘ দেখছে?
১. বিতর্কের মূলে কী?
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভার আসন নির্ধারিত হয়। ১৯৭১ সালের পর থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যা আর বাড়ানো হয়নি। ২০২৬ সালে সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন আদমশুমারির পর আসন পুনর্বিন্যাস হলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় তাদের আসন সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
২. কেন ক্ষুব্ধ দক্ষিণ ভারত?
তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্ণাটক বা অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো গত কয়েক দশকে সার্থকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের দাবি—
শাস্তি বনাম পুরস্কার: তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েও যদি আসন হারায় বা উত্তর ভারতের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে, তবে সেটা হবে তাদের উন্নয়নের জন্য এক ধরণের ‘শাস্তি’।
রাজনৈতিক আধিপত্য হারানো: উত্তরপ্রদেশ, বিহার বা মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়লে, দিল্লির ক্ষমতায় কে বসবে তা কেবল উত্তর ভারতই নির্ধারণ করবে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব হারাবে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো।
৩. নতুন সংসদ ভবন ও প্রেক্ষাপট
দিল্লিতে নবনির্মিত সংসদ ভবনে লোকসভার জন্য ৮৮৮টি আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার আসন সংখ্যা বাড়ানোর পথেই হাঁটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বর্তমান সূত্র মেনে আসন বৃদ্ধি হয়, তবে উত্তরপ্রদেশের একারই আসন সংখ্যা ১৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে, যেখানে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সম্মিলিত শক্তিও তার সমান হবে না।
৪. সমাধানের পথ কী?
বিরোধীদের দাবি, কেবল জনসংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং উন্নয়নের হার এবং অন্যান্য সামাজিক সূচককেও আসন বিন্যাসের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফেডারেল কাঠামো বজায় রাখতে রাজ্যগুলোর সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।





