মহারাষ্ট্রের পুণেতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর রহস্যজনক মৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে মৃত সুখেনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মহারাষ্ট্র প্রশাসনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “মহারাষ্ট্র পুলিশ যদি বিচার দিতে না পারে, তবে মামলাটি বাংলায় পাঠিয়ে দিক। আমরা মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করব।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিষেকের তোপ: কয়েক দিন আগেই পুণেতে কর্মরত পুরুলিয়ার যুবক সুখেন মাহাতোর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। যদিও পুণে পুলিশ একে ‘মদ্যপ অবস্থায় বচসা’ বলে দাবি করেছে। এদিন অভিষেক বলেন, “গত কয়েক মাসে একটি ভয়ঙ্কর প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই কেন বারবার বাঙালিদের আক্রমণ করা হচ্ছে? ওড়িশা, মহারাষ্ট্র বা ছত্তিশগড়—সবখানেই কেন আক্রান্ত হচ্ছে বাংলার মানুষ?”
বিজেপি সাংসদকে চ্যালেঞ্জ: পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকেও একহাত নেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বাংলার টাকা আটকানোর জন্য যখন দিল্লিতে তদ্বির করেন, তখন অনেক সময় পান। এখন নিজের জেলার এক যুবকের এই মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হোন।”
পরিবারকে আশ্বাস ও বড় ঘোষণা: মৃত সুখেনের দুই ভাইও পুণেতে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুতে আতঙ্কিত পরিবার আর তাঁদের বাইরে পাঠাতে চাইছে না। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক ঘোষণা করেন:
সুখেনের দুই ভাইকে যাতে রাজ্যেই কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়, সেই জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করবেন।
আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচ তৃণমূল কংগ্রেস বহন করবে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল মহারাষ্ট্র যাবে।
কী বলছেন বিরোধীরা? অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বললেও তৃণমূলের দাবি নস্যাৎ করেছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই বলেই যুবকদের বাইরে গিয়ে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের শাস্তির বিষয়ে তারা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখছে।





