জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ (JLF)-এর মঞ্চ থেকে রাজস্থানি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে সুর চড়ালেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক সিপি দেবল। ইটিভি ভারতের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত রাজস্থানি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন রাজনৈতিক নেতারাই। নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “নেতারা এই ভাষা তৈরি করেননি, তাহলে এটি ধ্বংস করার অধিকার তাদের কে দিল?”
দেবল জানান, রাজস্থানি সংস্কৃতি ও লোকশিল্প আজ খাদের কিনারে। তিনি ‘পাবুজি কি ফড়’ নামক ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের উদাহরণ দিয়ে বলেন, দুই দশক আগে যেখানে একজন শিল্পী ৪০০০ পঙক্তি মুখস্থ বলতে পারতেন, আজ ৪০০ পঙক্তি বলার মতো শিল্পী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আধুনিকীকরণ এবং ডিজিটাল বিনোদনের জোয়ারে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতি।
তার দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লোকসংস্কৃতি প্রচারের সুযোগ থাকলেও সেখানে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। এমনকি ২০০৮ সাল পর্যন্ত জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিভ্যালেও রাজস্থানি সাহিত্যের কোনো স্থান ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও কেন রাজস্থানি ভাষায় কোনো সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেল নেই? লেখকরা কষ্ট করে বই ছাপলেও পাঠক পাচ্ছেন না। যদিও ২০০৩ সাল থেকে রাজস্থান বিধানসভা বারবার কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তবুও আজও মেলেনি স্বীকৃতি। এই বঞ্চনার অবসান চেয়ে এখন রাজস্থানের আপামর জনতা ও সাহিত্যিক মহল ফের আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করছে।