পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে সাধারণত দেখা যায় বিরোধীরা লম্বা দফায় এবং শাসক দল কম দফায় ভোট করার দাবি জানায়। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই সমীকরণ আমূল বদলে গেল। রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ তিন দফায় নির্বাচন সম্পন্ন করতে আগ্রহী। সোমবার ৯ মার্চ ২০২৬, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করে এই প্রস্তাব জমা দিয়েছে বিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
বিজেপির এই দাবির পিছনে প্রধান যুক্তি হলো— দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন চললে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যায় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি হয়। তবে তাদের এই দাবির সাথে একটি বড় শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি জানিয়েছে, যদি প্রত্যেকটি বুথে এবং ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) মোতায়েন করা হয় এবং কড়া নজরদারি থাকে, তবেই কম দফায় ভোট করা সম্ভব। এর আগে ২০২১ সালে ৮ দফায় নির্বাচন হয়েছিল, যা নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। এবার বিজেপিই সেই কম দফার দাবি তোলায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর মধ্যে কৌশলী চাল দেখতে পাচ্ছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির এই দাবিকে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, বিজেপি বুঝতে পেরেছে লম্বা দফায় ভোট করিয়েও তারা লাভ করতে পারবে না, তাই এখন নাটক করছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর লভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যদি সত্যিই ৩ দফায় ভোট হয়, তবে তা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে গত দুই দশকের মধ্যে এক বড় পরিবর্তন হতে চলেছে।