বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের পর এবার ভারতীয় রেলের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে আরও এক উজ্জ্বল পালক। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানিয়েছেন, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে বাংলা। এই নতুন প্রকল্পের ফলে শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী যাওয়ার পথ হবে অবিশ্বাস্য রকমের দ্রুত।
রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই করিডরটি বারাণসী-পাটনা হয়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। সবথেকে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই বুলেট ট্রেনের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। এর ফলে বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পৌঁছাতে যে দীর্ঘ সময় লাগে, তা কমে দাঁড়াবে মাত্র ৩ ঘণ্টারও কম সময়ে।
কেবল বারাণসী নয়, রেলের এই মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী। বারাণসী থেকে দিল্লি পর্যন্তও একটি পৃথক হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির কাজ এগোবে। অর্থাৎ, যখন এই দুটি করিডর সংযুক্ত হবে, তখন শিলিগুড়ি থেকে দেশের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। বর্তমানে এই পথ অতিক্রম করতে ট্রেনে প্রায় ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় করতে হয় যাত্রীদের।
রেলমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই হাইস্পিড নেটওয়ার্ক কেবল শিলিগুড়িতেই থমকে থাকবে না। একে উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর ফলে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পরিকাঠামোগত দিক থেকে এই প্রকল্প হবে অত্যন্ত আধুনিক। মন্ত্রী জানিয়েছেন, মেট্রো রেলের ধাঁচে কিছু কিছু জায়গায় মাটির তলা দিয়েও এই ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও সুড়ঙ্গপথ ঠিক কোথায় তৈরি হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই জানানো হবে।
ভোটের মুখে রেলের এই মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা বাংলার মানুষের কাছে এক বড় উপহার হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যটন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য—এই বুলেট ট্রেন চালু হলে সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।