৩২ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য এবার দিল্লির দরবারে! হাইকোর্টের রায়ের পর কী বিরাট সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট?

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বহু চর্চিত ও সংবেদনশীল ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি সংক্রান্ত মামলাটিতে এবার এক নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হলো। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া চাকরি বহালের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের দায়ের করা মামলাটি অবশেষে শুনানির জন্য গ্রহণ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করে সব পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে।

মামলাটি গ্রহণ করার পাশাপাশি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো এবং শিক্ষকদের মান নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত স্পষ্ট ভাষায় পর্যবেক্ষণ করেন, “আমাদের শিশুরা যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের থেকে শিক্ষা পাচ্ছেন কিনা, সেটা সবার আগে জানা প্রয়োজন। আমাদের এটা নিশ্চিত হতে হবে যে যারা আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন, তাঁদের সেই উপযুক্ত যোগ্যতামান বা সঠিক প্রশিক্ষণ আছে কিনা।” আদালত স্পষ্ট করে জানতে চেয়েছে, চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কতজন আদৌ টেট (TET) পাশ।

তবে এই মামলা গ্রহণ করলেও কর্মরত শিক্ষকদের জন্য এখনই কোনো চরম সিদ্ধান্ত নেয়নি শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত এই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনো ধরনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ বা স্থগিতাদেশ জারি করছে না। এর অর্থ হলো, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পর শিক্ষকেরা বর্তমানে যে অবস্থায় বহাল ছিলেন, ঠিক সেই অবস্থাতেই স্বস্তিতে নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এখনই কারও চাকরি যাচ্ছে না।

আইনি লড়াইয়ের এই ইতিহাস বেশ নাটকীয়। ২০২৩ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ বেআইনি নিয়োগ ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় খারিজ করে মানবিক কারণে এই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। ডিভিশন বেঞ্চের যুক্তি ছিল, দীর্ঘ ৯ বছর চাকরি করার পর একলপ্তে এত মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া যায় না।

হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীরা। দেশের সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি গ্রহণ করায় কর্মরত শিক্ষকদের মনে আংশিক স্বস্তি থাকলেও, আগামী দিন নিয়ে উৎকণ্ঠা পুরোপুরি কাটল না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী চূড়ান্ত শুনানি হবে, যেখানে সমস্ত পক্ষের সওয়াল-জবাব খতিয়ে দেখে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে আদালত। আগস্টের সেই মেগা শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy