৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল: স্বস্তি ফিরতেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় চাকরিপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকেরা। সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে শিক্ষকদের চাকরি বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ। এই রায়ের পরই প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে (Abhijit Gangopadhyay) তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ ও বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।

আগের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়প্রদানকারী বিচারপতি (বর্তমানে বিজেপি সাংসদ) অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিশানা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:

“বিচারপতি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হলে দেশের বিচারব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়।”

কল্যাণের দাবি, তৎকালীন সিঙ্গল বেঞ্চ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল, কিন্তু সেই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি কেউ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ন’বছর ধরে চাকরি করছেন শিক্ষকরা। তাঁদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হলো কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে!”

তিনি ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন:

“ভাল রায় দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আমরা ডিভিশন বেঞ্চের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কৃতজ্ঞ বিচারপতিদের কাছে।”

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কল্যাণ আরও বলেন, “বিচারব্যবস্থায় যাঁরা বিচার করেন, তাঁরা সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে, রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে, নিজস্ব ভাবনা, নিজস্ব পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করেন, যা আজ ডিভিশন বেঞ্চ করেছে।”

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর প্রতিক্রিয়া:

এদিকে, আদালতের এই রায়দানের পরই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) এক্স হ্যান্ডলে (পূর্বে টুইটার) স্বস্তির বার্তা দেন। তিনি লেখেন:

“আজকে মহামান্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন জানাই। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রইল। শিক্ষকদেরও সতত শুভেচ্ছা। সত্যের জয় হল।”

দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল হওয়ায় শিক্ষকমহল ও রাজ্য সরকার, উভয় পক্ষেই স্বস্তি ফিরেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy