৩০ হাজার টাকা মাইনেতে কোটিপতি! ইপিএফ-এর জাদুতে অবসরের আগেই হাতে আসবে কোটি কোটি টাকা

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, মাসে মাত্র ৩০ হাজার টাকা আয় করে কি কখনও কোটিপতি হওয়া সম্ভব? উত্তরটা হলো— হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করার অন্যতম হাতিয়ার হলো আপনার এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ (EPF)। চাকুরিজীবীদের জন্য এটি কেবল একটি সঞ্চয় প্রকল্প নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ তৈরির এক বিশ্বস্ত মাধ্যম। সঠিক পরিকল্পনা আর সময়ের সঠিক ব্যবহার করলে ৩০ হাজার টাকা বেতন থেকেই আপনি ২ কোটি টাকারও বেশি মালিক হতে পারেন।

কীভাবে কাজ করে এই জাদুর অংক? ধরুন, আপনার বর্তমান বয়স ২৫ বছর এবং আপনার মূল বেতন (Basic + DA) ৩০,০০০ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, আপনার বেতনের ১২% অর্থাৎ ৩,৬০০ টাকা আপনার ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে। ঠিক সমপরিমাণ টাকা আপনার সংস্থাও জমা দেবে (যার মধ্যে একটি অংশ পেনশন স্কিমে যায়)। বর্তমানে ইপিএফ-এ সুদের হার ৮.২৫%। যদি আমরা ধরে নিই যে আপনার কর্মজীবনে প্রতি বছর গড়ে ৫% হারে বেতন বৃদ্ধি (Increment) হবে, তবেই শুরু হবে ম্যাজিক।

ক্যালকুলেশন কী বলছে? যদি আপনি টানা ৩৫ বছর চাকরি করেন এবং ৬০ বছর বয়সে অবসর নেন, তবে এই সামান্য বিনিয়োগ থেকেই আপনার মোট জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে আপনার নিজস্ব অবদান থাকবে তুলনামূলক কম, বড় অংশটি আসবে চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compound Interest) হাত ধরে। যত কম বয়সে আপনি চাকরি শুরু করবেন এবং নিয়মিত বিনিয়োগ চালিয়ে যাবেন, আপনার তহবিলের পরিমাণ তত বাড়বে।

ইপিএফ-এর সবথেকে বড় সুবিধা হলো এটি করমুক্ত এবং এতে বিনিয়োগের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। মাঝপথে বড় কোনো প্রয়োজন ছাড়া টাকা না তুললে সুদের হার আপনার টাকাকে সময়ের সাথে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ৩০ হাজার টাকা বেতনকে ছোট ভাববেন না; নিয়ম মেনে ইপিএফ-এ বিনিয়োগ চালিয়ে গেলেই শেষ বয়সে আপনি অনায়াসেই কোটিপতির তকমা অর্জন করতে পারবেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy