২ বছর পর বাঘের নখ কাটা! দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় ‘সম্রাট’-কে সামলাতে কালঘাম ছুটল বনকর্মীদের

পাহাড়ের কোলে পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্কে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বন দপ্তর। প্রায় এক যুগ পর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ‘সম্রাট’-এর নখ কাটার দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ২০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ বাঘটি বার্ধক্যের কারণে এমনিতেই অশক্ত হয়ে পড়েছিল, তার ওপর গত কয়েক বছর ধরে তার পায়ের নখ অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে থাবার মাংসের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছিল। যন্ত্রণায় একপ্রকার পঙ্গু হয়ে পড়েছিল বনের এই প্রাক্তন রাজা।

চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, সম্রাটের সামনের পায়ের নখ এতটাই বেঁকে গিয়েছিল যে তার পক্ষে এক পা হাঁটাও অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সারাদিন এক জায়গায় বসে থাকায় তার শরীরে অন্যান্য রোগ বাসা বাঁধছিল। এমনকি তার মুখের সামনে খাবার পৌঁছে দিতে হচ্ছিল কর্মীদের। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর অরুণকুমার মুখোপাধ্যায় তড়িঘড়ি আলিপুর চিড়িয়াখানার বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তবে কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। ২০ বছর বয়স হওয়ায় সম্রাটকে অজ্ঞান করা বা ট্রাঙ্কুইলাইজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অ্যানাস্থেশিয়া দিলে সম্রাটের হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চিকিৎসকরা এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তৈরি করা হয় একটি বিশেষ ‘স্কুইজ খাঁচা’ (Squeeze Cage)। এই খাঁচায় বাঘটিকে ঢোকানোর পর সে আর বিশেষ নড়াচড়া করার সুযোগ পায় না। সেই অবস্থাতেই কলকাতা থেকে আসা চিকিৎসক প্রলয় মণ্ডল ও দার্জিলিংয়ের চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্রাটের সেই বিষাক্ত হয়ে ওঠা নখ কেটে বাদ দেন।

দীর্ঘ এক দশক পর নখ কাটার পর যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে সম্রাট। ডিরেক্টর অরুণকুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “নখগুলো কাঁটার মতো ফুটে থাকায় ও হাঁটতে পারছিল না। এই বয়সে অজ্ঞান করা সম্ভব ছিল না বলেই খাঁচায় বন্দি করে এই কাজ করা হয়েছে। কাটা নখগুলো নিয়ম মেনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” বর্তমানে সম্রাট পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তার পেছনের পায়েও একটি নখ একইভাবে মাংসের ভেতরে ঢুকে রয়েছে, যা কিছুদিন পর একই পদ্ধতিতে কাটার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এই ঘটনার পর চিড়িয়াখানার বাকি বাঘেদের নখের দিকেও বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy