মঙ্গলবার ভোররাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন বাংলাদেশে আছড়ে পড়ল ভূমিকম্পের আতঙ্ক। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, ভোর ৪টে ০৬ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪.১ মাত্রার কম্পনে কেঁপে ওঠে ওপার বাংলা। অক্ষাংশ ২২.৮৪ উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৮৯.০১ পূর্ব অবস্থানে এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল মাটির প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গভীরে। প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, এই কম্পন বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, রিখটার স্কেলে ৪.১ মাত্রার কম্পন সাধারণ মনে হলেও এর শক্তি প্রায় ৬ টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমান। কিন্তু ভয়ের কারণ হলো স্কেলের ক্রমবর্ধমান দাপট। ৭.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প প্রায় ১,৯৯,০০০ টন টিএনটি-র সমান বিধ্বংসী হতে পারে। ইউএসজিএস-এর মতে, ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তি ২৫,০০০ পারমাণবিক বোমার সমান, যা যেকোনো দেশ বা শহরকে নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে। ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়া এবং বার্মা—এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে এই দেশ। বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্লেট প্রতি বছর ৬ সেমি গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে সরছে, যা তলায় তলায় বিশাল শক্তি সঞ্চয় করছে। সিলেট, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য এলাকা ইতিমধ্যে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রাজধানী ঢাকাকে নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম জনঘনত্বপূর্ণ এই শহরটি বর্তমানে পৃথিবীর শীর্ষ ২০টি ভূমিকম্প প্রবণ শহরের তালিকায় রয়েছে। যে কোনো বড় মাপের কম্পন তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দিতে পারে এই মেগাসিটিকে।