২২ লাখ কোটির জ্বালানি আমদানিতে লাগাম টানতে ‘আত্মনির্ভর’ গড়করি, দিল্লির দূষণ নিয়ে দিলেন বড় তথ্য! (জাতীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের প্রসঙ্গ টেনে)

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ইথানল মিশ্রণ নীতিতে (Ethanol Blending Policy) ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest)-এর অভিযোগকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (বৃহস্পতিবার) ‘নিউজ১৮ ইন্ডিয়া চৌপাল’-এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট জানান যে তাঁর ছেলেদের কোম্পানির তৈরি ইথানলের পরিমাণ “মোট সরবরাহের ০.৫ শতাংশের চেয়েও কম”।

অভিযোগ খণ্ডন ও ইথানল সরবরাহের তথ্য
নীতিন গড়করি বলেন, “আমাদের দেশে সরকার ১,৪০০ কোটি টনের ইথানল কেনে। ইথানল আসার আগে আমাদের একটি চিনির কারখানা ছিল, যেখানে অ্যালকোহল তৈরি হতো এবং যা আমার ছেলেরা চালাত। মোট সরবরাহের মধ্যে ইথানলের পরিমাণ ছিল ০.৫ শতাংশেরও কম।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, দেশে মোট ৫০০-৫৫০টি শিল্প সংস্থা ইথানল সরবরাহ করে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক টেন্ডারের মাধ্যমে ইথানল কেনে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইথানলের দাম নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, নীতি নির্ধারণে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই।

২২ লাখ কোটি টাকার আমদানি ও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং দেশের স্বার্থেই তিনি বিকল্প জ্বালানি নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য দেশের জ্বালানি আমদানির বোঝা কমানো এবং পরিবেশ দূষণ দূর করা।

গড়করি বলেন:

২২ লাখ কোটির আমদানি: “আমাদের দেশে ২২ লাখ কোটি টাকার জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) আমদানি করা হয়। এই পরিমাণ অর্থ ভারত থেকে বাইরে চলে যায়। আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে কি এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ?”

দিল্লির দূষণ: তিনি বলেন, “দিল্লির মানুষ জানেন যে দিল্লির ৪০ শতাংশ দূষণ এই জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে হয়। এর ফলে মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে।”

নীতিন গড়করি প্রশ্ন তোলেন, দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং দূষণ কমাতে ইথানল, মিথানল, বায়োডিজেল, এলএনজি এবং হাইড্রোজেন-এর মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে দেশকে ‘আত্মনির্ভর’ করা উচিত নয় কি?

তাঁর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইথানল নীতি প্রণয়ন তাঁর কাছে দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে তাঁর পরিবারের ব্যবসার সামান্য অংশীদারিত্ব কোনোভাবেই বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

পাঠকের প্রশ্ন: নীতিন গড়করির মতে, যদি ভারত সত্যিই ২২ লাখ কোটি টাকার জ্বালানি আমদানি কমাতে পারে, তবে অর্থনীতিতে এর কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আপনি মনে করেন?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy