বিশ্ব রাজনীতিতে যখন চরম অস্থিরতা, তখন ইসলামাবাদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে আশার আলো দেখেছিল আন্তর্জাতিক মহল। কিন্তু ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরেও মেলেনি কোনো সমাধান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ইসলামাবাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী ঘটল? পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত প্রায় এক দিন ধরে চলে এই স্নায়ুযুদ্ধ। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরমাণু চুক্তির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো ছিল আলোচনার টেবিলে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী মেয়াদে ইরানের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তার একটা রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছিল এই বৈঠকে।
কেন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো গেল না? দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরেও ব্যর্থতার পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ উঠে আসছে:
নিষেধাজ্ঞা বনাম পরমাণু কর্মসূচি: ইরান দাবি করছে তাদের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে, আমেরিকা চায় ইরানকে পুরোপুরিভাবে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে—যা নিয়ে দুই পক্ষই অনড়।
আঞ্চলিক আধিপত্য: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে আমেরিকার কড়া আপত্তি রয়েছে। ইরান এই বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি।
আস্থার অভাব: দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবং পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর ব্যর্থতার কারণে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আস্থার চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের ওপর এর প্রভাব: এই বৈঠক সফল হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাসহ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বৈঠক বেনতিজা হওয়ায় উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। বিশেষ করে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের আবহে এই ব্যর্থতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিল।
পরবর্তী ধাপ কী? ইসলামাবাদ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের প্রতিনিধিরা তাদের নিজের দেশে ফিরে গেছেন। তবে আলোচনার পথ কি চিরতরে বন্ধ হলো, নাকি ভবিষ্যতে আবারও বসবে দু-পক্ষ, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।





