বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে তিন দিনের রাজ্য সফর শেষ করলেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। সফরের শেষ দিনে কলকাতার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো আপস করা হবে না। এবারের সবথেকে বড় ঘোষণা হলো— রাজ্যের প্রতিটি বুথে অর্থাৎ ১০০ শতাংশ বুথেই ‘লাইভ ওয়েবকাস্টিং’-এর ব্যবস্থা করা হবে। দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে সরাসরি প্রতিটি বুথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা যাবে।
এদিন জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে ‘যুব ভোটাররা’। তিনি জানান, এবার নতুন এবং তরুণ ভোটারদের বুথমুখী করতে বিশেষ সচেতনতা অভিযান চালানো হবে। ১৮-১৯ বছর বয়সী ভোটারদের জন্য বুথে কিছু বিশেষ সারপ্রাইজ বা সম্মাননার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের উৎসবে যুব সমাজের অংশগ্রহণই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” এছাড়াও তিনি স্পর্শকাতর বুথগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং সিসিটিভি নজরদারি নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনার আরও স্পষ্ট করেছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ালে বা প্ররোচনামূলক পোস্ট দিলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযত আচরণের পরামর্শ দিয়েছেন। সিইসি-র এই সফরের পর এটা পরিষ্কার যে, ২০২৬-এ বাংলার ভোট হবে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর এবং ডিজিটাল নজরদারির অধীনে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও, কমিশনের এই সক্রিয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে।