২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই দলের অন্দরে কড়া বার্তা পাঠাল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার আর কেবল ‘মুখ দেখানো’ নয়, বরং ওয়ার্ড এবং বুথ স্তরে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে কাউন্সিলরদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনী প্রচারে সামান্য গাফিলতিও বরদাস্ত করা হবে না। কাউন্সিলরদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে তাঁদের এলাকার ফলাফলের ওপর।
বুথ ভিত্তিক চুলচেরা বিশ্লেষণ কালীঘাট সূত্রের খবর, প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)-এর সাহায্য নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের পালস মাপছে তৃণমূল। কোন কাউন্সিলর কতটা সক্রিয় এবং কার এলাকায় জনভিত্তি আলগা হচ্ছে, তার গোপন রিপোর্ট নিয়মিত জমা পড়ছে মমতার টেবিলে। যদি কোনো ওয়ার্ডে তৃণমূলের লিড গত নির্বাচনের তুলনায় কমে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের আগামী দিনের পথচলা যে কঠিন হবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রয়োজনে পুরভোটের টিকিটও কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
অভিষেকের ‘নিউ তৃণমূল’ মডেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ‘পারফরম্যান্স ভিত্তিক’ রাজনীতির ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁর সাফ কথা, দলের পুরোনো পরিচয় নয়, কাজের খতিয়ানই হবে একমাত্র পরিচয়। কাউন্সিলরদের প্রতিদিনের জনসংযোগ এবং প্রচারের গতিবিধি ট্র্যাক করা হচ্ছে বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে। ফাঁকিবাজিতে ধরা পড়লেই সরাসরি ‘অনিশ্চিত’ হয়ে পড়বে তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। এই কড়া বার্তার পর থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন নিচুতলার কর্মীরা।