২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাস্টারস্ট্রোক দিল বিজেপি। সোমবার বিকেলে রাজ্যের ১৪৪টি আসনের জন্য প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল গেরুয়া শিবির। আর এই তালিকায় সবথেকে বড় চমক— শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১-এর নন্দীগ্রাম জয়ের নায়ক এবার কেবল নিজের গড় রক্ষা নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরেও তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কোমর বেঁধে নামছেন। অর্থাৎ, এবারের ভোটেও বাংলার মানুষ দেখতে চলেছে হাইভোল্টেজ ‘মমতা বনাম শুভেন্দু’ দ্বৈরথ।
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু: বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার শুভেন্দু অধিকারীর ওপর বাড়তি ভরসা দেখিয়েছে। একদিকে তিনি নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন, অন্যদিকে ভবানীপুর কেন্দ্রেও প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের কেন্দ্রে আটকে রাখতেই এই রণকৌশল। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে হারের পর মমতা ভবানীপুর থেকে জিতেছিলেন, এবার সেই আসনেই তাঁকে সরাসরি টক্কর দেবেন শুভেন্দু।
দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তন ও অন্যান্য নক্ষত্ররা: প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে আবারও তাঁর পুরনো কেন্দ্র খড়গপুর (সদর)-এ প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ, বরানগরে সজল ঘোষ এবং শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষের নাম রয়েছে। পাণ্ডবেশ্বরে জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালকে প্রার্থী করে শিল্পাঞ্চলেও আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছে বিজেপি। ডায়মন্ড হারবারে দীপক কুমার হালদার এবং রাসবিহারীতে স্বপন দাশগুপ্তের নামও তালিকায় রয়েছে।
লড়াইয়ের ময়দান প্রস্তুত: বামেরা ইতিপূর্বে ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও, বিজেপির এই ১৪৪ জনের তালিকা কার্যত মেরুকরণের রাজনীতিকে এক নতুন মাত্রা দিল। ভাটপাড়ায় পবন সিং এবং বোলপুরে দিলীপ কুমার ঘোষের (বিজেপি নেতা) মতো লড়াকু মুখদের সামনে রেখে বিজেপি বুঝিয়ে দিল, তারা এক ইঞ্চি জমিও শাসকদলকে ছেড়ে দেবে না। নবান্ন দখলের এই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে শুভেন্দুর জোড়া আসনে লড়াই কি বিজেপির পালে হাওয়া দেবে? উত্তর দেবে আগামী মে মাস।