২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই রাজ্যের বেকারভাতা প্রকল্প নিয়ে চড়ছে রাজনীতির পারদ। রবিবার থেকে রাজ্য জুড়ে ‘যুবসাথী’ (Yuva Sathi) প্রকল্পের ফর্ম বিলি ও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। কিন্তু এই নতুন প্রকল্পের সূচনার প্রাক্কালেই ২০১৩ সালের পুরনো ‘যুবশ্রী’ প্রকল্প টেনে এনে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর নিশানায় ২০১৩-র ‘যুবশ্রী’: শনিবার বিজেপির রাজ্য দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, ২০১৩ সালে ঘটা করে শুরু হওয়া ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের আবেদনকারীদের বর্তমান অবস্থা কী? তাঁর দাবি:
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ১৭ লক্ষ আবেদন গ্রহণ করলেও মাত্র ১ লক্ষ বেকার কিছুদিনের জন্য ভাতা পেয়েছিলেন।
বাকি ১৬ লক্ষ আবেদনকারী আজও ভাতার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এই ১৭ লক্ষ মানুষের বর্তমান অবস্থান নিয়ে রাজ্য সরকারকে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করতে হবে।
শূন্যপদ ও ‘চাকরি চাই বাংলা’: এদিন শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণে ‘ভাতা বনাম চাকরি’র বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দেয়। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ১০ লক্ষ সরকারি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। যার মধ্যে:
৩ লক্ষ ৩০ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী।
১ লক্ষ ৫০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল। সব মিলিয়ে ৬ লক্ষ পদ সরকার অবলুপ্ত করেছে বলে তাঁর অভিযোগ। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা— “ভাতা দিয়ে শিক্ষিত বেকারদের অপমান করা হচ্ছে, বাংলার যুবসমাজ চাকরি চায়।”
যুবসাথী নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী: রবিবার থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে যুবসাথী ক্যাম্প। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, এপ্রিল থেকেই ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন মাধ্যমিক পাশ বেকাররা। কিন্তু শুভেন্দুর দাবি, “২০১৩ সালে যেভাবে যুবশ্রী প্রকল্পের অপমৃত্যু ঘটেছে, এবার নির্বাচনের পর এই যুবসাথী প্রকল্পেরও একই দশা হবে।” বিজেপি এই আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারের ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ ফাঁস করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এডিটরের নোট: রবিবারের ছুটির দিনে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ‘যুবসাথী’ ক্যাম্পগুলোতে মানুষের ভিড় কতটা হয় এবং শুভেন্দুর এই অভিযোগের পাল্টা নবান্ন কী জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার।




