ভোটের দামামা বাজতেই যেন একের পর এক বিপত্তি তাড়া করে বেড়াচ্ছে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরকে। কয়েকদিন আগেই মাদক কারবারের অভিযোগে তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। আর এবার খোদ হুমায়ুন কবীরের খাসতালুক মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে পৌঁছল সরকারি নোটিস। গত ১৮ বছর ধরে যে বাড়িতে তিনি সপরিবারে বসবাস করছেন, সেই বাড়ির জমি নিয়েই এবার আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মীরা সুলতানার নামে এই কড়া নোটিস পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। সরকারি সূত্রের দাবি, রেজিনগরে যে জমিতে হুমায়ুন কবীরের বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে, সেটি আসলে একটি জলাজমি ছিল। নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেই জলাজমি বুজিয়ে সেখানে নির্মাণ কাজ চালানো হয়েছে। এই মর্মে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মীরা সুলতানাকে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর না মিললে প্রশাসন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে এই নোটিস পাওয়া মাত্রই পালটা সরব হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, এই বাড়ি নিয়ে কোনও জালিয়াতি করা হয়নি। তিনি জানান, “একসময় ওই জমিতে একটি নালা ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই নালা বোজানোর অনেক পরেই আমি জমিটি কিনেছিলাম। আমার কাছে জমির প্রতিটি বৈধ নথি এবং কাগজ রয়েছে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের মুখে হুমায়ুন কবীরকে চাপে রাখতেই একের পর এক পারিবারিক নোটিস এবং পুলিশি সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।